কোচবিহার, নিউজ ডেস্ক: শহরের ব্যস্ততার মাঝে একটি বাড়িকে ঘিরে হঠাৎ তৈরি হল কৌতুহল। বাইরের থেকে কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি। কিন্তু গোপন সূত্রে পাওয়া একটি খবর বদলে দিল গোটা পরিস্থিতি। খবরের সত্যতা যাচাই করতে আচমকা বাড়িতে পৌঁছে গেল বন দফতরের দল। সঙ্গে ছিল পুলিশও। এরপর বাড়ির ভেতর জুড়ে তল্লাশি চালাতে সামনে এল এমন তথ্য, যা নিয়ে শুরু হল আলোচনা।
কোচবিহার শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ি থেকে দুটি টিয়া পাখির উদ্ধার করেছে, বনদফতর। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে বেআইনিভাবে পাখি দুটিকে আটকে রাখা হয়েছিল। সোমবার গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পরে ওই বাড়িতে অভিযান চালালো বন দফতরের আধিকারিকেরা। বন দফতর সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অনুমতি ছাড়া বন্য পাখি বাড়িতে বন্দী করে রাখা আইনত নিষিদ্ধ। বিশেষ করে দেশীয় বন্য পাখি সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধি-নিষেদের আওতায় পড়ে। সেই নিয়ম অমান্য করেই বাড়িতে দুটি টিয়া পাখি রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
সোমবার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে পৌঁছন বন দফতরের আধিকারিকেরা। বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর উদ্ধার করা হয় পাখি দুটি। এরপর সেগুলিকে নিয়ে যাওয়া হয় কোচবিহার-১ রেঞ্জ অফিসে। বর্তমানে পাখি দুটিকে বন দফতরের হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে, পাখি দুটিকে কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কতদিন ধরে সেগুলিকে বাড়িতে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।
বন দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বন্যপ্রাণী বা বন্য পাখিকে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে সরিয়ে বেআইনিভাবে বাড়িতে বন্দী রাখা যাবেনা। এই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাখি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বন দফতর। কোথাও বেআইনিভাবে বন্যপ্রাণী বা পাখিকে আটকে রাখা হয়েছে বলে খবর থাকলে দ্রুত বন দফতরকে জানানোর আবেদন করা হয়েছে। একটি গোপন খবর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান ফের সামনে আনল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রশ্ন। ফলে, শখের বসে বন্যপ্রাণী বাড়িতে বন্দী করার আগে আইন সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা ফের সামনে এল।