মালদা, নিউজ ডেস্ক: একদিকে জল, অন্যদিকে আশ্রয়ের অনিশ্চয়তা। পরিচিত ঠিকানা যে কখন নদীর স্রোতে মিলিয়ে যাবে, সেই আতঙ্কে এই দিন কাটছে বহু মানুষের। এক সময় যেই জায়গাটিকে নিজের বাড়ি বলে মনে করতেন, সেখানে থাকার আর উপায় নেই। সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে কোথায় যাবেন, সেই প্রশ্নের উত্তরও জানা নেই তাঁদের কাছে।
মালদার খাসকোলে গঙ্গার ভাঙ্গনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইংলিশবাজার ব্লকের মিলকি গ্রাম পঞ্চায়েতের এই এলাকায় গঙ্গার ভাঙ্গনে বিপর্যস্ত বহু পরিবার। ঘরবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে খাসকোল হাইস্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৪৮ টি পরিবারের ২০০ জন মানুষ। স্কুলের মাত্র সাতটি ঘরে, গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে তাঁদের।
ভিটেমাটি হারিয়ে এখন স্কুলের ঘরই তাঁদের কাছে মাথা গোজার শেষ ঠিকানা। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৫ দিন ধরে এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে গঙ্গায় ভাঙ্গন চলছে। রবিদাসপাড়া, মন্ডলপাড়া, কাশিপাড়া এবং শেখপাড়ায় ভাঙ্গনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক বাড়ি গঙ্গার জলে তলিয়ে গিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এদিকে, পরিস্থিতি বুঝে বহু পরিবার নিজেদের বাড়ি ভেঙে দরকারি সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। তারপর স্কুলে তৈরি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকাই অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের। খাবার হিসেবেও মিলছে সীমিত ব্যবস্থা। একবেলা খিচুড়ি অন্যবেলা ডিম-ভাত খেয়েই দিন কাটছে দুর্গতদের।
এদিকে,পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় যান মানিকচক বিধানসভার বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মন্ডল। নৌকাই করে ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন তিনি। পরে, খাসকোল হাই স্কুলের ত্রাণ শিবিরে গিয়ে দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। পুনর্বাসনের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্তরা। তাঁদের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিধায়ক জানান, নতুন জায়গায় 'মডেল ভিলেজ' তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
সেখানে বাড়ি তৈরির পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানীয় জল, শৌচাগার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যপরিষেবার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, এর মধ্যেই নতুন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সেচ দফতর। সূত্রে খবর, গঙ্গার জল বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। ফলে, নতুন করে ভাঙ্গন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে খাসকোলের নদী ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলি।