পূর্ব বর্ধমান, নিউজ ডেস্ক: সকাল থেকে একের পর এক জায়গায় তল্লাশি চলছিল। কোথাও খাবারের রং নিয়ে আপত্তি, আবার কোথাও রান্নার উপকরণ দেখে দাঁড়িয়ে পড়তে হল আধিকারিকদের। কিন্তু একটি জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। বাইরের থেকে সাধারণ একটি কারখানা বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু, ভিতরে ঢুকতেই আধিকারিকদের নজরে আসে এমন কিছু উপকরণ, যা দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে খাবারের গুণমান নিয়ে। এরপর শুরু হয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ এবং নোটিশ দেওয়ার মত পদক্ষেপ নিতে হয়।
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে একটি সস তৈরীর কারখানায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সূত্রে খবর, কারখানাতে পচা কুমড়ো পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি মজুদ ছিল আজিনোমোটো বা MSG এর একাধিক প্যাকেট। অতিরিক্ত পরিমানে আজিনোমোটো মজুদ রাখার অভিযোগে কারখানার এক মহিলাকে আটক করে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি, কারখানা থেকে বেশ কিছু নমুনাও সংগ্রহ করেছেন আধিকারিকরা।
রবিবার সকাল থেকেই কাটোয়া থানার পানুহাট এলাকায় বিভিন্ন খাবারের দোকান ও খাদ্য তৈরীর এলাকা অভিযান চালানো হয় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে। খাদ্য সুরক্ষা দফতর, পুলিশ প্রশাসন এবং পুরসভার যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চলে। খাবারের গুণমান, ব্যবহৃত উপকরণ এবং স্বাস্থ্যবিধি ঠিকঠাক মানা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখায় ছিল মূল লক্ষ্য।
এদিন, সেখানে একটি সস তৈরির কারখানায় গিয়ে আধিকারিকরা পচা কুমড়োর পাশাপাশি আজিনোমোটোর একাধিক প্যাকেট দেখতে পান। তাঁদের দাবি, খাবারের সসে অতিরিক্ত পরিমাণে আজিনোমোটো ব্যবহার করা হলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে। কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি মালিকপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে গিয়ে পানুহাটের মন্ডলহাট এলাকায় একটি মিষ্টির দোকানেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে বেশ কিছু মিষ্টিতে কৃত্রিম রং ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। এরপর ওই মিষ্টি গুলিকে ব্যবহার না করে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সর্তকতা জানানো হয়।
কারখানা থেকে সংগ্রহ করা নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট এবং তদন্তের পর পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে এই ধরনের অভিযান আরও চলবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। খাদ্য পণ্যের গুণমান নিয়ে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসনের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে।