দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে ফেরিঘাটের আশেপাশে বাড়ছিল মানুষের আনাগোনা। অন্ধকারের মধ্যে একের পর এক পশুকে নৌকা থেকে নামিয়ে দ্রুত গাড়িতে তোলার দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের কিছুটা সন্দেহ হয়। পরিস্থিতি বুঝতে তাঁরা এগিয়ে যান। শুরু হয় নানান জিজ্ঞাসাবাদ। শেষ পর্যন্ত আর দেরি না করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই বদলে যায় গোটা পরিস্থিতি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের যশোদা ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি গাড়ি আটক করেছে ঢোলাহাট থানার পুলিশ। সূত্রে খবর, পুলিশের তল্লাশিতে ওই দুটি গাড়ি থেকে ১৮ টি গরু ও ৪ টি ছাগল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে গাড়ি দুটি। উদ্ধার হওয়া পশুগুলিকে আপাতত পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ঢোলাহাট থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাথরপ্রতিমা ব্লকের কেদারপুর ঘাট থেকে নৌকায় করে গরু ও ছাগল যশোদা ঘাটের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছিল। এরপর, যশোদা মোড়ের ফেরিঘাট এলাকায় পশুগুলিকে দুটি গাড়িতে তোলা হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। তাঁদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘিরে ধরেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ঢোলাহাট থানার পুলিশ। এরপর পুলিশের তরফে গরু ও ছাগল পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারেননি। এরপরই ওই চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে, এখানেই শেষ নয়। তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। তদন্তকারীরা মনে করেছেন ঘটনার নেপথ্যে একাধিক সম্ভাবনা থাকতে পারে। এখন, তদন্তকারীদের মূল নজর পশুগুলির উৎস ও গন্তব্যের দিকে। এই গরু ছাগলগুলি কার, কোথা থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল, এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেইসব জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পাশাপাশি, পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এমনকি, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও বড়সড় পশু পাচারচক্রের যোগসূত্র আছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না প্রশাসন। তদন্তের অগ্রগতির পরই পরিষ্কার হবে, ফেরিঘাটের রাতের এই তৎপরতার নেপথ্যে আসলে কি ছিল।