নিউজ ডেস্ক: নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে। ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামি লিগের সভাপতির দায়িত্ব শেখ ফজলুল করিম সেলিমই সামলাবেন বলে জানালেন হাসিনা। এক নামী সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে শেখ সেলিমই সবচেয়ে প্রবীণ। তাই তাঁর নেতৃত্বেই এই সময় দল এগিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে হাসিনা এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। ফলে দলের নেতৃত্বে তাঁকে নিয়ে যে জল্পনা রয়েছে, তা কার্যত খারিজ করে দিলেন মুজিব-কন্যা।
দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, দেশে ফেরার ইচ্ছা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আওয়ামি লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন হাসিনা। দেশে ফেরার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে গিয়ে তিনি অন্য কাউকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চান না। কারণ, তাঁর হয়ে কেউ উদ্যোগ নিলে তাঁর জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। সেই কারণেই আপাতত দেশে ফেরার প্রশ্নে সতর্ক পদক্ষেপের পক্ষেই সওয়াল করেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ভারতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। বাংলাদেশে নির্বাচন আয়োজন এবং তার পরে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়েও নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমীকরণ বা সামরিক জোটের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। বরং আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক গড়ে ওঠা প্রয়োজন। প্রতিবেশী দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং ভৌগোলিক বাস্তবতার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
হাসিনার এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন পদ্মাপারে আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দলের প্রধান হিসেবে তাঁর অনুপস্থিতিতে সাংগঠনিক নেতৃত্ব কে সামলাবেন, তা নিয়ে এত দিন নানা জল্পনা ছিল। এই আবহে শেখ সেলিমের নাম সামনে এনে হাসিনা কার্যত নেতৃত্বের একটি সম্ভাব্য কাঠামো স্পষ্ট করলেন। পাশাপাশি নিজের দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষার কথাও জানিয়ে দিলেন তিনি। ফলে হাসিনার এই সাক্ষাৎকারকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামি লিগের ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, দুই ক্ষেত্রেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।