ঝাড়গ্রাম, নিউজ ডেস্ক: বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে আট বছরের এক শিশুকন্যাকে নিগ্রহের গুরুতর অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী বাড়ির এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। রবিবার দুপুরে ঝাড়গ্রাম থানা এলাকার এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় মহলে। ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসীরা অভিযুক্তকে ধরে মারধর শুরু করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে আটক করে। পরবর্তীতে পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে খবর, রবিবার দুপুরে শিশুটির বাবা-মা চাষের জমিতে কাজে গিয়েছিলেন। ঠাকুমাও ব্যস্ত ছিলেন গোয়ালঘরের কাজে। সেই সময় বাড়িতে ভাইয়ের সঙ্গেই ছিল তৃতীয় শ্রেণির ওই পড়ুয়া। অভিযোগ, বাড়ি নির্জন থাকার সুযোগ নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়ে অভিযুক্ত এবং শিশুটির ওপর নারকীয় অত্যাচার চালায়। পরবর্তীতে কাজ সেরে ঠাকুমা ঘরে ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা বিষয়টি জানায় সে।
শিশুকন্যাটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ইতিমধ্যে বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে আটকে রেখে গণপ্রহার শুরু করেন। খবর পৌঁছতেই ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জখম অবস্থায় অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নয়। দিন কয়েক আগেই সে প্রতিবেশীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। পরিচিতির সুবাদে শিশুটি তাকে আত্মীয়ের মতো সম্মান করত। সেই ভরসার সুযোগ নিয়েই সে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
ঘটনার জেরে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধর্ষণ এবং পকসো আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করেছে। ধৃতের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে বলে জেলা পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।