কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: বেনামি অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার লেনদেন? এবার কেন্দ্রীয় সংস্থার স্ক্যানারে জোড়াফুলের রাজ্যসভার সাংসদ।
সপ্তাহের শুরুতেই আর্থিক তছরুপ মামলার তদন্তে বড়সড় অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আতশকাচের তলায় এবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক। একাধিক বেনামি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সন্দেহজনক বিপুল আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে সোমবার সকাল থেকেই একযোগে কলকাতা, দিল্লি ও রাঁচীর আটটি ঠিকানায় তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সাংসদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক বাসভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় চলছে এই ম্যারাথন অভিযান।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত নাদিমুল হক ঘনিষ্ঠ একটি উর্দু সংবাদপত্র গোষ্ঠী ও তার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরেই এই তৎপরতা। গত আগস্ট মাসে দায়ের হওয়া একটি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ। এদিন সকালে কলকাতার পার্ক সার্কাসের সংবাদপত্র দফতর এবং ১২ নম্বর দরগা রোডের ঠিকানায় অভিযান চালান আধিকারিকেরা। ওই উর্দু দৈনিকটি দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর থেকে প্রকাশিত হয়। সংবাদমাধ্যমের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার বা ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অভিযানের আঁচ পৌঁছেছে দিল্লিতেও। সাউথ অ্যাভিনিউয়ে সাংসদের বাংলোসহ মোট চারটি ঠিকানায় পৌঁছে যায় ইডি-র দল। উল্লেখ্য, ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাংলো থেকে সরিয়ে সম্প্রতি নাদিমুলের এই বাসভবনের একাংশেই তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের দলীয় কার্যালয় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। ফলে সেই ঠিকানায় কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রবেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, তদন্তের জাল বিস্তার করতে সাংসদের পরিবারকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কলকাতার পাশাপাশি তাঁর কন্যা ও জামাতার বাসভবনেও এদিন সকালে হাজির হন তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে দাবি, বিভিন্ন সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হওয়া বিশাল অঙ্কের লেনদেনের উৎস এবং এর প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতেই একযোগে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দিনভর এই অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করবেন আধিকারিকেরা।