নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা উত্তরপ্রদেশের বাগপতে। ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল একটি তীর্থযাত্রী বোঝাই বাস। সোমবার গভীর রাতে ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ের উপর এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও ২৮ যাত্রী। পুলিশ সূত্রে খবর, বাসটিতে ছিলেন মোট ৩২ জন পূণ্যার্থী। তাঁরা রাজস্থান থেকে উত্তরপ্রদেশের বদায়ূঁ যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ খেকড়া থানা এলাকার কাছে আচমকাই ঘটে দুর্ঘটনা। বিকট শব্দে বাসটি উল্টে যাওয়ার পর যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। ডায়াল ১১২-এর চারটি পুলিশ রেসপন্স ভেহিকল, একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স এবং খেকড়া থানার পুলিশকর্মীরা শুরু করেন উদ্ধারকাজ। উল্টে যাওয়া বাসের ভিতর থেকে আহতদের বার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাগপত ও খেকড়ার কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ছাড়াও আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় বাগপত জেলা হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত মোট ৪ জন পূণ্যার্থী। মৃতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আহতদের পরিজনদেরও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয় হাসপাতাল চত্বরে। একসঙ্গে এত জন পূণ্যার্থী আহত হওয়ায় চিকিৎসকদের একটি দলকে দ্রুত পরিষেবায় নামানো হয়। কী ভাবে বাসটি ডিভাইডারে ধাক্কা মারল, চালক সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন কি না, সবই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর মৃত ও আহতদের পরিচয় জানতে বাগপত পুলিশ পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগের জন্য একটি নম্বরও দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মৃতদের দেহ তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে দ্রুতগতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানো, চালকের ক্লান্তি কিংবা অন্য কোনও কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। তীর্থযাত্রী বোঝাই বাসটির এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে ফের এক বার প্রশ্নের মুখে পড়ল লং রুটের যাত্রীবাহী বাসের নিরাপত্তা।