নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: পাঁচতলা বাড়ি ভেঙে ছয় জনের মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসল দিল্লি সরকার। সোমবার ফের ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির মালিকের গাফিলতি এবং বেসমেন্টে জমে থাকা জল পুরনো কাঠামোটিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। ধসের আগে বাড়িটিতে মেরামতি বা সংস্কারের কাজও চলছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি কর্তব্যে গাফিলতি বা নজরদারিতে খামতি প্রমাণিত হলে দিল্লি পুরনিগমের আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ঘটনার পর রাজধানীর বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিতও দিয়েছেন রেখা। তাঁর নির্দেশ, জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য থাকা ভবনগুলির নিয়মিত স্ট্রাকচারাল অডিট বাধ্যতামূলক করা হবে। ২০, ৩০ কিংবা ৪০ বছর পুরনো বাড়ির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা শংসাপত্র দেওয়ার নীতি তৈরির কাজ চলছে। বৈধ কাঠামোগত নিরাপত্তা রিপোর্ট ছাড়া কোনও বাড়িতে পিজি, নার্সিংহোম, স্কুল বা এই ধরনের পরিষেবা চালানো যাবে না বলেও সাফ জানিয়েছেন তিনি। সত্য নিকেতনের আশপাশে পঞ্চম তলাযুক্ত ভবনগুলি অবিলম্বে সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার পিজি ও অন্যান্য ভবনে জোরদার পরিদর্শন চালানোর কথাও বলা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে সিল করে দেওয়া হবে বাড়িগুলি।
রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতন এলাকায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে প্রায় ৫০ বছরের পুরনো পাঁচতলা বাড়িটি। ছাত্রদের থাকার জন্য পিজি হিসাবে ব্যবহৃত ওই বাড়িতে তখন একাধিক মানুষ ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন অনেকে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬ জনের ইতিমধ্যে মৃত্যু ঘটেছে। বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল। ধ্বংসস্তূপের প্রায় ৮০ শতাংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেখা। এখন মূলত বেসমেন্টের অংশের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। দুর্ঘটনার জেরে যাঁদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিকল্প থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে দিকেও নজর রাখছে প্রশাসন।
এ দিকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজের কারণে সত্য নিকেতন সংলগ্ন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সফদরজং হাসপাতাল থেকে ধৌলা কুয়ান, আরটিআর এবং বেনিটো জুয়রেজ মার্গের দিকের কয়েকটি রাস্তা এড়িয়ে চলাই ভাল। সাধারণ মানুষকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে গাড়ি থামানো, পার্কিং করা বা ভিড় না করার জন্যও আবেদন জানিয়েছে পুলিশ, যাতে অ্যাম্বুল্যান্স ও উদ্ধারকারী দলের যাতায়াতে কোনও বাধা না পড়ে। এ দিকে এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি। ফলে সত্য নিকেতনের এই দুর্ঘটনার পর দিল্লিতে পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারি যে আরও কড়া হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।