JAZZBAAT 24 BANGLA
০৮ সেপ্টে ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
Breaking
কলকাতা পুলিশের পুজোর উপহার, ৫০টি যানবাহন দিলেন পরিবহনমন্ত্রী ব্যাংককে ভারতের জয়জয়কার, আন্তর্জাতিক যোগা মঞ্চ কাঁপিয়ে ঘরে ফিরল অন্ডালের চার সোনার মেয়... জয়পুরে এসে আমেরিকান তরুণীর বিস্ফোরক মন্তব্য, সমাজমাধ্যমে শোরগোল 'কাউকে ছাড়া হবে না', জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর ঘণ্টাখানেক চোয়ালে পা আটকে, শেষরক্ষা হল না পার্ককর্মীর প্রযোজক বানানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, টালিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার এক ব্যক্তি অক্টোবরে খুশির খবর, থাকছে অতিরিক্ত ছুটি! গভীর রাতে জলপাইগুড়িতে সিপিএম দফতরে আগুন-ভাঙচুর, অভিযোগ বিজেপি-ABVP-র বিরুদ্ধে খারাপ আবহাওয়ার জের, কালিম্পংয়ে নামতে পারল না শুভেন্দুর কপ্টার ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে দ্বিতীয়বার পুলিশের মুখোমুখি ডেরেক ও’ব্রায়েন টেনিস কোর্ট নয়, পেজের লড়াই এ বার নির্বাচনের ময়দানে এলাকা দখল ঘিরে অশান্তি, ধারালো অস্ত্রের কোপে জখম ২ সিপিআইএম কর্মী কলকাতা পুলিশের পুজোর উপহার, ৫০টি যানবাহন দিলেন পরিবহনমন্ত্রী ব্যাংককে ভারতের জয়জয়কার, আন্তর্জাতিক যোগা মঞ্চ কাঁপিয়ে ঘরে ফিরল অন্ডালের চার সোনার মেয়... জয়পুরে এসে আমেরিকান তরুণীর বিস্ফোরক মন্তব্য, সমাজমাধ্যমে শোরগোল 'কাউকে ছাড়া হবে না', জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর ঘণ্টাখানেক চোয়ালে পা আটকে, শেষরক্ষা হল না পার্ককর্মীর প্রযোজক বানানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, টালিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার এক ব্যক্তি অক্টোবরে খুশির খবর, থাকছে অতিরিক্ত ছুটি! গভীর রাতে জলপাইগুড়িতে সিপিএম দফতরে আগুন-ভাঙচুর, অভিযোগ বিজেপি-ABVP-র বিরুদ্ধে খারাপ আবহাওয়ার জের, কালিম্পংয়ে নামতে পারল না শুভেন্দুর কপ্টার ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে দ্বিতীয়বার পুলিশের মুখোমুখি ডেরেক ও’ব্রায়েন টেনিস কোর্ট নয়, পেজের লড়াই এ বার নির্বাচনের ময়দানে এলাকা দখল ঘিরে অশান্তি, ধারালো অস্ত্রের কোপে জখম ২ সিপিআইএম কর্মী

বাংলাকে ধর্ম শেখানোর দুঃসাহস কার?

বাংলাকে ধর্ম শেখানোর দুঃসাহস কার?

বাংলাকে ধর্ম শেখাতে আসার আগে বাংলার মাটি ছুঁয়ে প্রণাম করতে হয়। কারণ এই মাটির ধর্ম কোনও একরৈখিক বিধিনিষেধের ধর্ম নয়; এই মাটির ধর্ম বহুত্বের, সাধনার, প্রশ্ন করার, গ্রহণ করার। এখানে শাক্তের পাশে বৈষ্ণব, মন্দিরের পাশে মসজিদ, বেদান্তের পাশে লোকাচার, সব মিলিয়েই বাংলার আত্মপরিচয়।

অথচ আজ এমন এক অদ্ভুত সময়ের সাক্ষী আমরা, যখন কয়েক দিনের জনপ্রিয়তা, কয়েকটি উগ্র উচ্চারণ আর ধর্মের পোশাকের জোরে কেউ কেউ বাংলার কোটি মানুষের ধর্মাচরণের ওপর সার্টিফিকেট বিলি করতে নেমে পড়েছেন।

ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর বক্তব্য তাই নিছক একটি খাদ্যাভ্যাসের মন্তব্য বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় না। কারণ প্রশ্নটি মাছ-মাংসের থালায় আটকে নেই। প্রশ্নটি আরও গভীর, একজন মানুষ কীভাবে নিজের ধর্ম পালন করবেন, সেই অধিকারটুকুও কি এখন কোনও স্বঘোষিত ধর্মগুরুর অনুমতির ওপর নির্ভর করবে?

দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে কেবল চার দিনের পূজা নয়। এটি স্মৃতি, সংস্কৃতি, পারিবারিক রীতি এবং বহু প্রজন্মের আবেগের সম্মিলিত উৎসব। বাংলার বিভিন্ন বনেদি বাড়ির পুজোয় যুগে যুগে নানা রকম খাদ্যাচার, ভোগ ও পারিবারিক প্রথা চলে এসেছে। কোথাও নিরামিষ, কোথাও মাছ! বাঙালির ধর্মাচারকে একটি মাত্র ছাঁচে ঢেলে দেওয়ার ইতিহাস নেই।

আর এখানেই আসে আরও বড় একটি প্রশ্ন। শ্রীরামকৃষ্ণকে কি তাঁর নিজের বাংলাতেই নতুন করে ধর্মের পাঠ পড়াতে হবে?

যে বাংলায় শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস মানুষের ধর্মীয় অভিজ্ঞতার বহুত্বকে স্বীকার করেছিলেন, যে বাংলায় মা সারদার মানবিকতা ধর্মের সীমানাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল, যে বাংলায় স্বামী বিবেকানন্দ ধর্মকে কেবল আচার নয়, মানুষের শক্তি, আত্মমর্যাদা ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন, সেই বাংলায় আজ কেউ এসে খাবারের থালা দেখে মানুষের ধর্মবিশ্বাসের মাপজোক করবেন?

এ কেমন ধর্ম? এ কেমন অধিকারবোধ? শ্রীরামকৃষ্ণের উত্তরাধিকার যদি সত্যিই হৃদয়ে ধারণ করা হয়, তবে মানুষের রান্নাঘরে উঁকি দিয়ে তার ঈশ্বরবিশ্বাসের বিচার করার এমন ঔদ্ধত্য আসার কথা নয়।

আর যে মানুষ দুর্গাপুজোর সময় মাছ-মাংস খায়, তাকে ‘পাষণ্ড’, ‘ভণ্ড’ কিংবা অধার্মিক বলে দাগিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা আসলে ধর্মকে মহৎ করে না, ধর্মের নাম করে মানুষের স্বাধীন বিবেককে অপমান করে।

হিন্দুধর্ম কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য নয়। কোনও বাবার জমিদারি নয়। কোনও মঞ্চের মাইক্রোফোনও নয়। হিন্দুধর্ম এত ঠুনকো নয় যে কারও মুখের কথায় একজন হিন্দুর ধর্মীয় পরিচয় বাতিল হয়ে যাবে। 

আর সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন আরও সরাসরি। যাঁরা বাংলার মানুষের জন্য নীতি নির্ধারণ করেন, তাঁরা কি এই ঔদ্ধত্যের সামনে নীরব দর্শক হয়ে থাকবেন? রাজনৈতিক লাভের অঙ্কে কি বাংলার সংস্কৃতিকে বন্ধক রাখা হবে? ভোটের রাজনীতির জন্য যদি ধর্মের নামে মানুষের খাবার, পোশাক, আচার এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর পাহারা বসানো হয়, তবে সেই পাহারাদারির বিরুদ্ধে কথা বলাই নাগরিকের কর্তব্য।

বাংলা কারও ধর্মীয় পরীক্ষাগার নয়। বাংলার মানুষকে কে হিন্দু, কে পাষণ্ড, কে ভক্ত, কে অবিশ্বাসী এই সার্টিফিকেট দেওয়ার লাইসেন্স কোনও স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে বাংলার মানুষ দেয়নি।

মনে রাখা দরকার, বাংলার দুর্গা বাংলার ঘরের মেয়ে। বাংলার ধর্ম বাংলার মানুষের আত্মার বিষয়। আর বাঙালির বিবেকের দরজায় কোনও ‘বাবা’র পাহারাদারি চলবে না। ধর্ম যদি মানুষকে বড় না করে, তবে সেই ধর্মের নামে অহংকার কেবল শব্দের আতিশয্য।

রামকৃষ্ণের বাংলায় রামকৃষ্ণকে অপমান করে ধর্ম শেখানোর এই দুঃসাহসের জবাব যুক্তিতে, ইতিহাসে এবং বাংলার জাগ্রত বিবেকে দেওয়াই হোক।

42 Views 1 Likes 0 Comments

Related News

বাবাজির নিরামিষ ফতোয়া বনাম বাঙালির নবমীর পাঁঠা
মতামত

বাবাজির নিরামিষ ফতোয়া বনাম বাঙালির নবমীর পাঁঠা

দিব্যেন্দু ঘোষ, নিউজ ডেস্ক: বাঙালির থালায় মাছ-মাংস কমন। রবি-দুপুরে কিংবা পুজো-পার্বণে সে থালার সাদা ভাত কিংবা আটা-ময়দার রুটি-লুচি তেলতেলে না হলে বাঙালির রসনা আবেগে ভর দিয়ে হাঁটে না। কচি পাঁঠার ঝোল ভাত থেকে, পাত থেকে উধাও...

০৮ সেপ্টে ২০২৬, ১১:৫৩ এএম · 3 মিনিট
সরকারি শিক্ষায় ‘উন্নতি’র দাবির আড়ালে বড় প্রশ্ন
মতামত

সরকারি শিক্ষায় ‘উন্নতি’র দাবির আড়ালে বড় প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গের ছবিটিও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। সরকারি স্কুলের উপর এখনও রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার বড় অংশ নির্ভরশীল। কিন্তু একই সঙ্গে অতি কম পড়ুয়া থাকা সরকারি স্কুলের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। অর্থাৎ সরকারি স্কুল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং তার ভিতরের বণ্টন ক্রমশ অসম হয়ে উঠছে।

০৩ সেপ্টে ২০২৬, ০২:১৬ পিএম · 3 মিনিট
অ্যামাজনের চাকরি খুইয়ে থেমে যাননি ! ছ’টি মুরগির ছানা আঁকড়েই শুরু নতুন জীবন
মতামত

অ্যামাজনের চাকরি খুইয়ে থেমে যাননি ! ছ’টি মুরগির ছানা আঁকড়েই শুরু নতুন জীবন

২০২৬ সালের মার্চে অ্যামাজনের চাকরি হারানোর পর যে মহিলার দিন কাটছিল নতুন কাজের সন্ধানে, তিনিই কয়েক মাস পরে লিখলেন—‘‘এখন আমি ডিম বিক্রি করছি।’’

৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩১ পিএম · 3 মিনিট
সকালে জেলের গেট পেরিয়ে কাজে, সন্ধ্যায় আবার হাজত! বন্দিদের ‘স্বাধীনতা’র নতুন মডেল ঝাড়খণ্ডে
মতামত

সকালে জেলের গেট পেরিয়ে কাজে, সন্ধ্যায় আবার হাজত! বন্দিদের ‘স্বাধীনতা’র নতুন মডেল ঝ...

প্রথম ধাপে রাজ্যের চারটি কেন্দ্রীয় জেলে এই ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তুতি চলছে। রাঁচির বিরসা মুন্ডা সেন্ট্রাল জেল, হাজারিবাগের জয়প্রকাশ নারায়ণ সেন্ট্রাল জেল, পূর্ব সিংভূমের ঘাঘিডিহ সেন্ট্রাল জেল এবং দুমকা সেন্ট্রাল জেলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ওই জেলগুলিতে ইতিমধ্যেই এমন ব্যারাক ও সেল চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলিকে ‘ওপেন’ অথবা ‘সেমি-ওপেন’ ব্যারাকে বদলানো যাবে।

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম · 3 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.