JAZZBAAT 24 BANGLA
১৪ অক্টো ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
Breaking
Political Controversy : “অভিষেককেও সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে”, সুকান্ত মজুমদার Arijit Singh: অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টের টিকিটের দাম ১১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা! Malda News: পুজোর আগে ক্ষুদেদের পাতে স্পেশাল মেনু, খুশিতে মাতল পড়ুয়ারা Air France: ৩১ দেশের নাগরিক বিমানকর্মীদের নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বিতর্ক Meghalaya Tourism: মেঘালয়ের এই গ্রামে প্রত্যেকের নাম এক-একটি গান, রইল পৌঁছনোর ঠিকানাও Rann of Kutch: ভারতের এই সাদা নোনা প্রান্তরে শীতেই কেন পর্যটকদের ভিড় Bengali Recipe: লুচি-ছোলার ডাল থেকে কষা মাংস, বাঙালির ভোজে কোন পদগুলি থাকতেই হবে? CJP Protest: তেরঙ্গা হাতে ফের দিল্লিতে CJP-র ডাক! ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় কী হতে চলেছে কনট প... Political Controversy : “অভিষেককেও সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে”, সুকান্ত মজুমদার Arijit Singh: অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টের টিকিটের দাম ১১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা! Malda News: পুজোর আগে ক্ষুদেদের পাতে স্পেশাল মেনু, খুশিতে মাতল পড়ুয়ারা Air France: ৩১ দেশের নাগরিক বিমানকর্মীদের নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বিতর্ক Meghalaya Tourism: মেঘালয়ের এই গ্রামে প্রত্যেকের নাম এক-একটি গান, রইল পৌঁছনোর ঠিকানাও Rann of Kutch: ভারতের এই সাদা নোনা প্রান্তরে শীতেই কেন পর্যটকদের ভিড় Bengali Recipe: লুচি-ছোলার ডাল থেকে কষা মাংস, বাঙালির ভোজে কোন পদগুলি থাকতেই হবে? CJP Protest: তেরঙ্গা হাতে ফের দিল্লিতে CJP-র ডাক! ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় কী হতে চলেছে কনট প...

সকালে জেলের গেট পেরিয়ে কাজে, সন্ধ্যায় আবার হাজত! বন্দিদের ‘স্বাধীনতা’র নতুন মডেল ঝাড়খণ্ডে

সকালে জেলের গেট পেরিয়ে কাজে, সন্ধ্যায় আবার হাজত! বন্দিদের ‘স্বাধীনতা’র নতুন মডেল ঝাড়খণ্ডে

রাঁচি, নিউজ ডেস্ক: সকাল ছ’টা। জেলের গেট খুলল। একে একে কয়েক জন বন্দি বেরিয়ে গেলেন। গন্তব্য জেলের বাইরে—কাজের জায়গা। কেউ হয়তো যাবেন নির্মাণকাজে, কেউ কোনও দোকান বা প্রতিষ্ঠানে, কেউ করবেন অন্য কোনও পেশা। দিনের শেষে হাতে থাকবে উপার্জনের টাকা। কিন্তু সন্ধ্যা নামার আগেই ফেরার পালা। ঠিকানা সেই জেলই। গেট পেরিয়ে বাইরে যাওয়ার অনুমতি মিলবে, কিন্তু রাত কাটবে না জেলের বাইরে। কাজ শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরতে হবে কারাগারে।

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এমনই নতুন ব্যবস্থা চালুর পথে ঝাড়খণ্ড। বন্দিদের শুধুই শাস্তি দেওয়া নয়, জেল থেকে বেরোনোর পর যাতে তাঁরা সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সেই প্রস্তুতি জেলের ভিতর থেকেই শুরু করতে চাইছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই নির্বাচিত বন্দিদের দিনের বেলা জেলের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত। তবে শর্ত একটাই, সন্ধ্যায় আবার ফিরতে হবে জেলে।

প্রথম ধাপে রাজ্যের চারটি কেন্দ্রীয় জেলে এই ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তুতি চলছে। রাঁচির বিরসা মুন্ডা সেন্ট্রাল জেল, হাজারিবাগের জয়প্রকাশ নারায়ণ সেন্ট্রাল জেল, পূর্ব সিংভূমের ঘাঘিডিহ সেন্ট্রাল জেল এবং দুমকা সেন্ট্রাল জেলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ওই জেলগুলিতে ইতিমধ্যেই এমন ব্যারাক ও সেল চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলিকে ‘ওপেন’ অথবা ‘সেমি-ওপেন’ ব্যারাকে বদলানো যাবে।

কারা দফতরের আইজি সুদর্শন মণ্ডলের কথায়, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নির্বাচিত বন্দিরা সকাল ৬টা বা ৭টার দিকে জেল থেকে বেরিয়ে কাজে যেতে পারবেন। প্রায় ১২ ঘণ্টা বাইরে থাকার পরে তাঁদের জেলে ফিরে আসতে হবে। চারটি জেলই শহরাঞ্চলে হওয়ায় কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি বলে মনে করছে প্রশাসন। ফলে বন্দিরা শুধু কাজের অভিজ্ঞতাই অর্জন করবেন না, নিজেদের পরিবারের জন্য অর্থও উপার্জন করতে পারবেন।

তবে ‘জেলের দরজা খুলে দেওয়া’ মানেই যে সব বন্দির জন্য এই সুযোগ, তা নয়। বরং গোটা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশই হল বাছাই। কারা বাইরে গিয়ে কাজ করার যোগ্য, তা ঠিক করতে তৈরি হবে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়র বা এসওপি। বন্দির জেলের ভিতরের আচরণ, নিয়মকানুন মেনে চলার রেকর্ড-সহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, কারাগারে দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন—এমন বন্দিদেরই ধীরে ধীরে এই সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা।

কেন এই ব্যবস্থা?

কারা প্রশাসনের ভাবনায়, জেল থেকে এক দিন হঠাৎ করে মুক্তি পাওয়ার পরে সমাজের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক বন্দির কাছেই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ দিন জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে থাকার পরে কাজের বাজার, পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক—সব কিছুই বদলে যেতে পারে। তার সঙ্গে যুক্ত হয় আর্থিক অনিশ্চয়তা। ফলে মুক্তির পরে আবার অপরাধের জগতে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। সেই জায়গা থেকেই সংশোধনাগারের ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চাইছে ঝাড়খণ্ড।

এই ব্যবস্থায় বন্দি সাজা ভোগ করবেন, কিন্তু একই সঙ্গে কাজের জগতের সঙ্গে যোগাযোগও রাখবেন। নিজের শ্রমে আয় করবেন। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে অর্থ পাঠাতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা, মুক্তির আগেই বাইরের জীবনের সঙ্গে ধীরে ধীরে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হবে। সরকারের লক্ষ্য তাই শুধু ‘কাজের সুযোগ’ দেওয়া নয়—বন্দিকে ভবিষ্যতের জীবনের জন্য তৈরি করা।

এই সিদ্ধান্তের পিছনে আইনি ভিত্তিও রয়েছে। ঝাড়খণ্ড সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ২০২৫ সালের ঝাড়খণ্ড প্রিজন অ্যান্ড কারেকশনাল সার্ভিসেস আইনে থাকা ‘ওপেন কারেকশনাল ইনস্টিটিউশন’-এর ব্যবস্থাকে সামনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের ‘সুহাস চকমা বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’ মামলার নির্দেশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যে সব রাজ্যে কার্যকর ওপেন কারেকশনাল ইনস্টিটিউশন নেই, সেখানে তার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলেছিল শীর্ষ আদালত। আলাদা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা সম্ভব না হলে বিদ্যমান জেলের মধ্যেই ‘ওপেন’ বা ‘সেমি-ওপেন’ ব্যারাক তৈরির কথাও বলা হয়েছিল। অর্থাৎ, ঝাড়খণ্ডের পরীক্ষাটি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। দেশের কারা-ব্যবস্থায় ‘শাস্তি’ থেকে ‘সংশোধন’—এই পরিবর্তিত ভাবনার সঙ্গেও এর যোগ রয়েছে।

তবে প্রশ্নও থাকছে। বন্দিরা বাইরে গিয়ে কোথায় কাজ করবেন? তাঁদের উপর কী ধরনের নজরদারি থাকবে? নির্দিষ্ট সময়ে কেউ জেলে না ফিরলে কী ব্যবস্থা হবে? বাইরে কাজ করার সময় কোনও অপরাধে জড়িয়ে পড়লে দায় কার? নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসনের মধ্যে ভারসাম্য কী ভাবে রাখা হবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরই নির্ভর করবে তৈরি হতে চলা এসওপির উপর। প্রশাসনের বক্তব্য, সব নিয়ম স্পষ্ট করার পরেই ব্যবস্থাটি কার্যকর করা হবে। তবু এই উদ্যোগের ভিতরে যে ছবিটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, তা হল—জেলের পাঁচিলের ভিতরে থেকেও বাইরের জীবনের প্রস্তুতি।

এখানে বন্দিকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর সাজাও মকুব হচ্ছে না। কিন্তু দিনের একটা অংশের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে পাঁচিলের দরজা। হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে কাজের সুযোগ। বলা হচ্ছে—নিজের শ্রমে উপার্জন করো, পরিবারের পাশে দাঁড়াও, সমাজের সঙ্গে আবার যোগাযোগ তৈরি করো। আর দিনের শেষে ফিরে এসো।

সকালটা হয়তো স্বাধীন জীবনের মহড়া। সন্ধ্যাটা আবার কারাবাসের বাস্তবতা। দুইয়ের মাঝখানেই ঝাড়খণ্ড খুঁজছে বন্দি-সংশোধনের নতুন পথ।

47 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

ছু মন্তর
মতামত

ছু মন্তর

বিশেষ প্রতিবেদন, দিব্যেন্দু ঘোষ: দিল্লির রাজনৈতিক এবং প্রতিবাদী সংস্কৃতির মানচিত্রে একটি দীর্ঘ ছায়া ফেলে দেওয়া পরিবর্তন ঘটে গেছে। সুপ্রিম কোর্ট ও প্রশাসনের হরেক নির্দেশিকা এবং নিরাপত্তা ও ট্রাফিকের যুক্তির আড়ালে ঐতিহাসিক...

১৩ অক্টো ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম · 4 মিনিট
Indian Democracy: শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বদলেই মিটবে না সঙ্কট, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার জরুরি
মতামত

Indian Democracy: শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বদলেই মিটবে না সঙ্কট, গণতন্ত্রের...

বিশেষ প্রতিবেদন, নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত: ভারতের গণতন্ত্র কি আজ এমন এক সঙ্কটের মুখে, যার সমাধান শুধু একজন নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ বা অপসারণে সম্ভব নয়? নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিতর্ক...

১২ অক্টো ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম · 5 মিনিট
অজন্তা-ইলোরার শিল্পকীর্তি মায়ানমারে! এই অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদ যা ভারতবর্ষেও বিরল
মতামত

অজন্তা-ইলোরার শিল্পকীর্তি মায়ানমারে! এই অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদ যা ভারতবর্ষেও বিরল

পরবর্তী শতকগুলিতে মায়ানমারে বৌদ্ধধর্ম দ্রুত পুনরুজ্জীবিত হলেও বাংলায় বৈষ্ণবধর্ম ও ইসলামের প্রসার ঘটে। বাংলার একসময়ের বিশাল বৌদ্ধ মন্দির ও বিহারগুলি আক্রমণের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সম্ভবত স্থানীয় মানুষও সেখানকার ইট খুলে নিয়ে অন্য কাজে ব্যবহার করেছিলেন।

১১ অক্টো ২০২৬, ০৫:০১ পিএম · 4 মিনিট
Tree Conservation: কাঠের হিসাবেই কি গাছের মূল্য? পরিবেশ আর মানুষের স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখে সবুজ উত্তরাধিকার
মতামত

Tree Conservation: কাঠের হিসাবেই কি গাছের মূল্য? পরিবেশ আর মানুষের স্মৃতি বাঁচিয়ে...

বিশেষ প্রতিবেদন: একটি পুরনো বটগাছের ছায়ায় হয়তো বিশ্রাম নিয়েছেন কয়েক প্রজন্মের পথিক। তার ডালে বাসা বেঁধেছে পাখি, শিকড়ের আশপাশে আশ্রয় পেয়েছে নানা প্রাণী। গাছটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে স্থানীয় মানুষের স্মৃতি, লোককথা এবং এলাকার ন...

১১ অক্টো ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম · 5 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.