জলপাইগুড়ি, নিউজ ডেস্ক: ছাত্র রাজনীতির রেষারেষিকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জলপাইগুড়ি শহর। সোমবার রাতে সিপিএমের জেলা কার্যালয় ‘সুবোধ সেন ভবন’-এ ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। দপ্তরের জানলার কাচ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শহীদ বেদি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং দলীয় পতাকা জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এবিভিপি ও বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। যদিও যাবতীয় অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে এসএফআই ও এবিভিপি সমর্থকদের মধ্যে হওয়া একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থেকে। সেই ঘটনায় কয়েকজন এবিভিপি কর্মী আহত হন। এবিভিপির দাবি, রাতে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বাড়ি ফেরার পথে সুবোধ সেন ভবনের সামনে তাদের ওপর বাম কর্মীরা ফের অতর্কিতে হামলা চালায়। সেই সংঘাতের জেরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ একদল দুষ্কৃতী লাঠিসোঁটা ও পেট্রোল নিয়ে বাম কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার আইসি বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাম কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, পুলিশের সামনেই অবাধে তাণ্ডব চালিয়েছে হামলাকারীরা। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গেও তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বাম নেতৃত্ব।
সিপিএম জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্রের দাবি, গণভিত্তি হারিয়ে বিজেপি ও আরএসএস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা লাল ঝান্ডার ওপর পরিকল্পিত এই আক্রমণ চালিয়েছে, তবে কর্মীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়। হামলার ভিডিও সমাজমাধ্যমে তুলে ধরে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাম নেতা মহম্মদ সেলিম। অন্যদিকে এবিভিপি ও বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো যোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।