কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: নিম্ন আদালতের নির্দেশকে সরাসরি নাকচ করে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে বড় আইনি স্বস্তি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করার পাশাপাশি ধর্মীয় পোশাক ও আচার নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে কৃষ্ণনগর আদালতের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো মামলাটিই এখন স্থানান্তরিত হচ্ছে বিধাননগরের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে।
ঘটনার সূত্রপাত কৃষ্ণনগরের এক বাসিন্দার দায়ের করা অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি বোরখা, হিজাব ও তুলসীমালা সংক্রান্ত মন্তব্যের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ উসকে দিয়েছেন, নারীর মর্যাদাহানি করেছেন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন।
নবপ্রণীত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার আওতায় মামলা হওয়ার পর কৃষ্ণনগর মহকুমা আদালত তাঁকে একাধিকবার হাজিরার নির্দেশ দিলেও তিনি উপস্থিত হননি। ফলস্বরূপ তাঁর নামে জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। নিম্ন আদালতের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
শুনানিতে তাঁর আইনজীবী অর্ক নাগ স্পষ্ট সওয়াল করেন, একজন নির্বাচিত সাংসদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার এক্তিয়ার সাধারণ মহকুমা আদালতের নেই,এই ধরনের বিচারপ্রক্রিয়া কেবল বিশেষ আদালতেই চলতে পারে। এই যুক্তি গ্রহণ করে ডিভিশন বেঞ্চ কৃষ্ণনগর আদালতের সমস্ত পূর্ববর্তী নির্দেশ খারিজ করে দেয় এবং মামলাটি বিধাননগর এমপি-এমএলএ আদালতে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এদিকে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক হেনস্থার অভিযোগেও সুর চড়িয়েছেন মহুয়া। সম্প্রতি নদিয়া সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে গভীর রাতে তাঁকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার চেষ্টা এবং বাইরে বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিষয়টি দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত বলে দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে তিনি যেমন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন, তেমনই গোটা ঘটনাটি জানিয়ে নালিশ ঠুকেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছেও। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক ময়দানে সংঘাত জারি থাকলেও আদালতের এই সিদ্ধান্তে আপাতত অনেকটাই চাপমুক্ত কৃষ্ণনগরের সাংসদ।