ক্যানিং, নিউজ ডেস্ক: একটি কাগজকে ঘিরে আচমকা শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন। কাগজটির ছবি ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মহলে। একটি নোটিসের প্রতিলিপি প্রকাশ্যে এসেছে, নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ও জানানো হয়েছে সেখানে। কিন্তু, যাকে ঘিরে এই নোটিশ, তাঁর বক্তব্য আবার সম্পূর্ণ অন্য কথা। ফলে, তদন্তের মধ্যেই সামনে এসেছে এমন এক পরিস্থিতি, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস। অস্ত্র মামলার তদন্তের সূত্র ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি তরফ থেকে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রকাশ্যে আসা নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ টায় কলকাতার ভবানী ভবনে সিআইডির দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
তবে, নোটিশ ঘিরে প্রকাশ্যে আসা তথ্য এবং পরেশরাম দাসের বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। নোটিসের কপি যখন বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুরছে, তখন বিধায়কের দাবি, তিনি এখনও ব্যক্তিগতভাবে কোনও নোটিশ হাতে পাননি। ফলে, স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে প্রকাশ্যে আসা নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের মধ্যে এত ফারাক থাকার কারণ সম্পর্কে।
সূত্রে খবর, গত ২৯ মে ক্যানিং থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ২৪৩/২৬ নম্বর মামলা রুজু হয়। মামলায় একাধিক ধারার পাশাপাশি অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ ধারার এবং বিস্ফোরক আইনের ৩/৪ ধারাও যুক্ত রয়েছে বলে প্রকাশিত নোটিসের সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির হাতে আসার পরই পরেশরাম দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে হিংসা হামলা ও অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের পুরনো মামলা তদন্তের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে, এখন নজর ৮ সেপ্টেম্বরের দিকে। এখন দেখার বিষয় ঐদিন পরেশরাম দাস সিআইডির দফতরে হাজির হন কি না। সত্যিই কি তাঁর কাছে নোটিশ পৌঁছইনি, না কি কোনও কারণে সেই নোটিশ এখনও তাঁর কাছে আসেনি? আপাতত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহল। সেইসঙ্গে নোটিশ ঘিরে ঘনীভূত রহস্য এখনও বজায় রয়েছে।