কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: হাত মাত্র এক মাস। তার পরে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। তারই আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞাপনে মা দূর্গার ছবি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক। যেখানে দেখা গিয়েছে দেবী দুর্গার ১০টি বদলে রয়েছে ১১টি হাত। অতিরিক্ত হাতের সঙ্গে রয়েছে বাড়তি অস্ত্রও। পুরাণের মতে দুর্গার রূপের সঙ্গে এই ছবির মিল না থাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
সরকারি বিজ্ঞাপনের ছবিতে দুর্গার অতিরিক্ত হাত ও অস্ত্র নজরে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল ও সিপিএম। শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। এই বিষয়ে শমীক বলেন, 'মা দুর্গা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে গিয়েছেন।' পরে অবশ্য তিনি জানান, বিজ্ঞাপনটি এখনও তাঁর চোখে পড়েনি। তাঁর কথায়, 'এজেন্সি ছাপতে গিয়ে ভুল করেছে।' সেটা রাজনৈতিক বিষয় নয়। ভুল থাকলে সংশোধন করে নেওয়া হবে।'
পালাবদলের পর বাংলায় বিজেপি সরকারের প্রথম দুর্গাপুজো। যা নিয়ে একের পর এক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার এ বিষয়ে বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষও। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, 'একটা চমৎকার সরকারি বিজ্ঞাপন। এখানে মা দুর্গার এগারোটা হাত। দেবতাদের পক্ষ থেকে দুর্গাকে ১০ হাতে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল অসুর বধের জন্য। আর বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে ঠাকুরকে একটা এক্সট্রা হাত দেওয়া হয়েছে, পুজোর সময় বাঙালির উপর কেউ নিরামিষ খাওয়ার ফতোয়া জারি করতে এলে তাঁকে কানের গোড়ায় থাবড়া মেরে প্যান্ডেল এবং বাংলা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য।'
পাশাপাশি, সরকারি বিজ্ঞাপনে ১১ হাতের দুর্গা নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষও। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, 'থিম হবে না, বিকৃত হবে না… গাদাখানেক হুমকি ও আচরণবিধি তো দেখলাম। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞাপনে মায়ের ১১টি হাত কী করে হল? দশভূজা ২০২৬-এ একাদশভূজা হয়ে গেলেন কোন শাস্ত্র অনুসারে' ? সরকারি বিজ্ঞাপনে মা দুর্গার এমন অসঙ্গতি কীভাবে তৈরি হল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। বিজ্ঞাপনটি সংশোধন করা হবে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।