বারাসত, রেশমি ব্যানার্জি: বিগত দুদিনে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা বাংলা জুড়ে। ইতিমধ্যেই তারাপীঠ ও কলকাতার ঘটনা রাতের ঘুম উড়িয়েছে মানুষের। এরই মধ্যে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এবার বারাসাত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের লেডিস হোস্টেলে। ঘটনাকে ঘিরে চঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। তবে বড়সড়ো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই অল্পের জন্য মিলল রক্ষা। ভয়ংকর দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন হোটেলের আবাসিকরা।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতাল সংলগ্ন এনটিএস বিল্ডিংয়ের লেডিস হস্টেলের একটি ঘর থেকে আচমকাই ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি নজরে আসে হস্টেলের আবাসিকদের। ঘরের ভিতর আগুন দেখতে পেয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। তড়িঘড়ি খবর যায় দমকলেও।
পরিস্থিতি গুরুত্ব বুঝতে পেরে হাসপাতালে ইলেকট্রিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরই পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। হোস্টেলের আবাসিক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দমকলকর্মীদের তৎপরতায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। কোনক্রমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কিভাবে ঘটল? এর নেপথে আর কি কি কারণ আছে তা নিয়ে সঠিক কোন তথ্য এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবুও সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, হঠাৎ করেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর ফলে ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাব, পোশাক এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়, এই ঘটনায় কোনও পড়ুয়া বা হস্টেলের আবাসিকের আহত হওয়ার খবর নেই।
রাজ্যে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে সর্বত্র। বারাসত মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে এই আগুনের ঘটনায় ফের সামনে এল নিরাপত্তার প্রশ্ন। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় বিপদ এড়ানো গেলেও ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত বলে মনে করা হচ্ছে।