ফিলিপাইন, নিউজ ডেস্ক: রাজধানী ম্যানিলা থেকে পালাওয়ান প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ কোরনের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি যাত্রীবাহী জাহাজে রাতের অন্ধকারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 'এমভি জুন অ্যাস্টার' নামের নৌযানটিতে আগুন লাগার পর থেকে মাঝসমুদ্রে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড। উত্তাল সমুদ্র, ভারী বৃষ্টি এবং তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অফিশিয়াল নথি অনুযায়ী জাহাজে মোট ১৩৪ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে ১১৭ জন সাধারণ যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু। এখন পর্যন্ত ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আশি জনেরও বেশি মানুষের কোনো সন্ধান মেলেনি।
ফিলিপাইনের অভ্যন্তরীণ নৌপথে জাহাজের অফিসিয়াল তালিকার বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের দীর্ঘদিনের রেকর্ড রয়েছে। অতীতে 'এমভি তৃষা কার্স্টিন ৩' এবং 'লেডি মেরি জয় ৩' দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, নথির বাইরে বহু অঘোষিত যাত্রী ছিলেন। কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই জাহাজেও নথির বাইরে কেউ উঠে থাকলে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তীব্র স্রোতে জ্বলন্ত জাহাজটি তার মূল অবস্থান বারানগে মার্সিলা উপকূল থেকে বহু দূর সমুদ্রে ভেসে যাওয়ায় তল্লাশি এলাকা ক্রমাগত বিস্তৃত করতে হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের ছোট নৌকা নিয়ে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কোরন হাসপাতাল ও সংলগ্ন উপকূলে ভিড় জমিয়েছেন নিখোঁজদের স্বজনরা। কেউ রাজধানী ম্যানিলায় পড়াশোনা করা সন্তানদের দেখে ফিরছিলেন, কেউ আবার আত্মীয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ করে সপরিবারে ঘরে ফিরছিলেন। প্রিয়জনদের বেঁচে থাকার কোনো খবর মিলবে এই আশায় প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে কোলের শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন অসহায় স্ত্রী কিংবা বোনেরা। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ স্বজন ও শিশুদের ছবি পোস্ট করে মরিয়া হয়ে তথ্য খুঁজছেন।
সাত হাজারেরও বেশি দ্বীপের দেশ ফিলিপাইনে সাধারণ মানুষের চলাচলের অন্যতম সস্তা মাধ্যম এই ধরনের ফেরি সার্ভিস। তবে প্রায়শই দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে বড় ধরনের নৌ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সমুদ্রে জীবিতদের খুঁজে পেতে সময়ই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।