পুরুলিয়া, পিউ নন্দী: প্রথমবার রাজ্যে মনসা পুজোয় হাফ ছুটি। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। জঙ্গলমহলে জন্য মনসা পুজো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানবাজারে প্রশাসনিক সভা থেকে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া মনসা পুজো উপলক্ষে অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, মনসা পুজো উপলক্ষে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় সরকারি ছুটি থাকবে।
১৮ অগাস্ট, মঙ্গলবার এই দুই জেলার রাজ্য সরকারি কার্যালয়, স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থা, পঞ্চায়েত ও পুরসভা, সরকারি বোর্ড, কর্পোরেশন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে দুপুর ২টোর পর থেকে স্থানীয় ছুটি কার্যকর হবে। ১৭ অগাস্ট, ২০২৬ তারিখে রাজ্য সরকারের অর্থ দফতর থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
রাজ্যপালের অনুমোদন সাপেক্ষে অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি. কে. মিশ্র একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার সাধারণ মানুষ এবং সরকারি কর্মচারীরা যাতে স্থানীয় লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে স্বচ্ছন্দে যোগ দিতে পারেন, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৮ অগাস্ট দুপুর ২টোর পর থেকে দুই জেলার সমস্ত রাজ্য সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলিতে ছুটি কার্যকর হবে।
পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শ্রাবণ সংক্রান্তির মনসা পুজো শুধুমাত্র একটি পুজোপাঠ নয়, গ্রামীণ সমাজের এক মহা মিলনমেলা।
দিনটিকে কেন্দ্র করে গ্রামবাংলায় গড়ে ওঠে এক সমৃদ্ধ লোকজ আবহ যার মূল আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী ঝাঁপান উৎসব, পদ্মাপুরাণ ও মনসামঙ্গলের গান এবং দেবীর ভাসান। সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ও আন্তরিক আবেগকে স্বীকৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বিশেষ ছুটি মঞ্জুর করেছে রাজ্য সরকার। খুশির হওয়া বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলা জুড়ে।