নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংগীতাঙ্গনে এক অনন্য নাম আলমগীর হক, যাকে আখ্যা দেওয়া হয় ‘প্রাচ্যের এলভিস প্রিসলি’। সম্প্রতি বিটিভির আমন্ত্রণে তাঁর গাওয়া হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী গান ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা’ এবং লোকসংগীত ‘আমায় ভাসাইলি রে’-এর পারফর্ম্যান্স ভিডিও শ্রোতাদের মাঝে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, ‘আমায় ভাসাইলি রে’ গানটি তিনি পরবর্তীতে পাকিস্তানের বিখ্যাত সংগীত আয়োজন ‘কোক স্টুডিও’-তেও পরিবেশন করেছিলেন।
খুব কম মানুষই জানেন, স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাসে আলমগীর এক ঐতিহাসিক পথিকৃৎ। ১৯৬৩ সালে যাত্রা শুরু করা দেশের প্রথম ব্যান্ড ‘আইওলাইটস’-এ ১৯৬৪ সালে প্রধান ভোকাল হিসেবে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে এই ব্যান্ডটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘উইন্ডি সাইড অফ কেয়ার’।
আলমগীরের পুরো পরিবারটিই ছিল যেন একটি সংগীত বিদ্যালয়। তাঁর ছোট ভাই নয়ন মুন্সীকে বলা হয় বাংলাদেশের প্রথম ‘গিটার সেনসেশন’, যাঁকে দেখে আইয়ুব বাচ্চুর মতো তারকারা হাতে গিটার তুলে নিয়েছিলেন। তিনি পরবর্তীতে আজম খানের বিখ্যাত গিটারিস্ট হন। অপর ভাই দস্তগীর ছিলেন স্বাধীনতার পর গঠিত প্রথম ব্যান্ড ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভার্স’-এর ভোকাল। অন্যদিকে, বোন জর্জিনা হক ছিলেন দেশের প্রথম নারী ড্রামার, যিনি বাকি দুই বোনকে নিয়ে গঠন করেছিলেন ‘ত্রি হক সিস্টার্স’।
১৯৬৯ সালের উত্তাল গণঅভ্যুত্থানের সময় বড় তারকা হওয়ার স্বপ্নে আলমগীর করাচি চলে যান। সেখানে হোটেল গ্লোবে খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটানোর পর মাসে ৩৫০ রুপি ও খাবারের বিনিময়ে গান গাওয়ার সুযোগ পান। এই হোটেলেই এক শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শে পাকিস্তান টেলিভিশনের (পিটিভি) গান প্রতিযোগিতায় অডিশন দেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর বিশ্বমানের তারকা হয়ে ওঠার পথ।
পাকিস্তানে অবস্থান করলেও আলমগীর কখনো নিজের মাটিকে ভুলেননি। বিদেশের মাটিতে বসেই তিনি গেয়েছেন ‘আমার হাড় কালা’ কিংবা ‘আমায় এত রাতে ক্যানে ডাক দিলি’-র মতো জনপ্রিয় বাংলা গান। বাংলাদেশের আমন্ত্রণে বারবার ছুটে এসেছেন কনসার্ট ও অ্যালবামের কাজে, বজায় রেখেছেন পারিবারিক ও সুরের আত্মিক বন্ধন।