স্পোর্টস ডেস্ক: পদক এল না। তবে টেকবল নামের ইভেন্টটিকে ভারতের ক্রীড়ামঞ্চে পরিচিত করে দেওয়ার কাজটা করে দিলেন কুইমসি ডি’সুজা। রবিবার ভারতের হয়ে এশিয়ান গেমসে টেকবলের দুটি ইভেন্টেই ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নেমেছিলেন তিনি। মহিলাদের সিঙ্গলস এবং মিক্সড ডাবলস, দুটিতেই অবশ্য শেষপর্যন্ত থামতে হল চতুর্থ স্থানে। তবে ২৪ বছরের কুইমসির লড়াই নজর কেড়েছে সকলেরই। বিশেষ করে, চোট নিয়েও মিক্সড ডাবলসের ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে কোর্টে নেমে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই তাঁকে এশিয়াডের অন্যতম স্মরণীয় মুখ করে তুলেছে।
মহিলাদের সিঙ্গলসের ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে কুইমসির সামনে ছিলেন বিশ্ব ক্রমতালিকায় ৭ নম্বরে থাকা জাপানের ইউইনা সাকামোতো। শুরুটা একেবারেই ভাল হয়নি ভারতীয় ক্রীড়াবিদের। দ্রুত ৫-১ এগিয়ে যান সাকামোতো। ঘরের মাঠে জাপানি খেলোয়াড়ের সমর্থনে গ্যালারি তখন রীতিমতো সরগরম। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচে ফিরে আসেন কুইমসি। প্রতিটি পয়েন্টের জন্য মরিয়া লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দুটি গেমই ১১-১২ ব্যবধানে হারতে হয় তাঁকে। অর্থাৎ ব্যবধান ছিল মাত্র এক পয়েন্টের। স্কোরলাইন সাকামোতোর পক্ষে ১২-১১, ১২-১১ গেলেও কুইমসির লড়াইয় কোথাও গিয়ে যেন ছাপিয়ে গিয়েছে তাকেও।
এর পর মিক্সড ডাবলসেও ছিল ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ। কিন্তু সেখানেও শেষ হাসি হাসতে ব্যর্থ ভারত। চোটের সমস্যা নিয়েই কোর্টে নেমেছিলেন কুইমসি। শরীর পুরোপুরি সঙ্গ দিচ্ছিল না একেবারেই। তা সত্ত্বেও ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবেননি তিনি। প্রতিটি বলের পিছনে ছুটে পয়েন্ট জেতার চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত পদক হাতছাড়া হলেও টেকবলের মতো তুলনামূলক নতুন খেলায় ভারতের হয়ে তাঁর লড়াই নজর কেড়েছে বিশ্বের সকল ক্রীড়াপ্রেমীর।
নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এই এশিয়াডেই টেকবলে ভারতের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এল। দুটি ব্রোঞ্জ পদকের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতেই ফিরতে হল ভারতকে। তবে কুইমসির অদম্য পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য দিয়ে গেল এক উজ্জ্বল বার্তা। ফলাফলের খাতায় চতুর্থ স্থান। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার যে ছবি তিনি দেখালেন, তা টেকবলে ভারতীয় অভিযানের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল। পদক না এলেও রবি-সকালে কুইমসির লড়াই যেন বলে দিল, এই খেলায় ভারতকে আরও অনেক দূর যেতে দেখা যেতে পারে।