বহরমপুর, নিউজ ডেস্ক: এবার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে তলব করল বহরমপুর থানার পুলিশ। টেলিফোনে উস্কানিমূলক কথাবার্তার অভিযোগে বহরমপুর থানায় হাজিরা দিতে হবে হুমায়ুনকে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর, সোমবার সকাল ১১টায় তাঁকে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের টেলিফোনে কথোপকথন প্রকাশ্যে আসে। সেই কথোপকথনে একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।বিষয়টি সামনে আসার পরই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।মূলত সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বহরমপুর থানার পুলিশ। সেই মতো শনিবার বিকেলে হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে যায় পুলিশের একটি দল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় ২৯৯, ১৪৮, ১৫২, ১৯২, ১৯৬(২) এবং ৬১(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রকাশ্যে আসা ফোনালাপের বিষয়বস্তু এবং সেখানে করা মন্তব্যের প্রেক্ষিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কথোপকথনের সত্যতা, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং এর সঙ্গে অভিযোগের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তদন্তে তা যাচাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ফোনালাপটি কীভাবে প্রকাশ্যে এল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এই বিষয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, 'নির্বাচনের আগে এসব রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ। আমিও দেখতে চাই বিজেপি সরকারের পুলিশ আমার কী করতে পারে।'
শনিবার হুমায়ুনের বাড়িতে পুলিশের যাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কী কী তথ্য ও নথি সংগ্রহ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এখন দেখার সোমবার হুমায়ুন কবীর হাজির হওয়ার পর তাঁকে কী কী প্রশ্ন করা হয়।
সামনেই রাজ্যের দুই কেন্দ্র রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। হুমায়ুন কবীর রেজিনগর আসন থেকে পদত্যাগ করে নওদা আসনটি ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এই উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ এজেইউপির হয়ে রেজিনগরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জোড়াফুল প্রতীক অবলুপ্ত পর আরও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশন। এমন অবস্থায় বড়সড় ধাক্কা খেলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান।