নিউজ ডেস্ক: রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। উপনির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-কে পুরনো ‘বাঁশি’ প্রতীকের বদলে ‘টেবিল’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন-পুত্র তথা দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ রবিন। অন্যদিকে, কমিশনের বক্তব্য, স্বীকৃত নয় এমন রাজনৈতিক দলগুলিকে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনেই মুক্ত প্রতীকের তালিকা থেকে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।
রবিনের দাবি, তিনি ৯ সেপ্টেম্বর ‘বাঁশি’ প্রতীকেই মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। সেই সময় কমিশনের প্রকাশিত মুক্ত প্রতীকের তালিকায় ‘বাঁশি’ ছিল বলেও তাঁর দাবি। পরে স্ক্রুটিনির সময় প্রতীকের তালিকা বদলে যাওয়ায় পরিস্থিতি পালটে যায়। তাঁর অভিযোগ, প্রচারের জন্য ইতিমধ্যেই ‘বাঁশি’ প্রতীককে সামনে রেখে দেওয়াল লিখন-সহ নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এখন নতুন প্রতীক নিয়ে ফের ভোটারদের কাছে পৌঁছতে হবে।
তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে যে ব্যাখ্যা সামনে এসেছে, তাতে বিষয়টি প্রতীক বরাদ্দের নিয়মের সঙ্গেই যুক্ত। কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রতীক কোনও দলের স্থায়ী অধিকার নয় যদি সেই দল স্বীকৃত রাজনৈতিক দল না হয়। উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে মুক্ত প্রতীকের তালিকা থেকে নতুন করে প্রতীক দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। ফলে আগের নির্বাচনে বা কোনও সময়ে ব্যবহৃত প্রতীক পরবর্তী উপনির্বাচনে একইভাবে পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই।
এরই মধ্যে ‘বাঁশি’ প্রতীকটি তামিলনাড়ুর বিজয়ের দল Tamilaga Vettri Kazhagam (TVK)-কে রাজ্য দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর স্থায়ীভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে বলে কমিশন-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই কারণেই রেজিনগরের উপনির্বাচনে AJUP-কে ‘বাঁশি’ দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে ‘টেবিল’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।
নতুন প্রতীক পাওয়ার পর রবিন অবশ্য লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনও ইঙ্গিত দেননি। বরং তাঁর বক্তব্য, ২০১৬ সালে তাঁর বাবা হুমায়ুন কবীর রেজিনগরে ‘টেবিল’ প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়েছিলেন। ফলে নতুন প্রতীকটিও এলাকার ভোটারদের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত নয় বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রতীক বদল হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না।
অন্যদিকে, রেজিনগর উপনির্বাচনে আরও একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী প্রথমে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পর সিদ্ধান্ত বদলে ফের নির্বাচনী ময়দানে থাকার কথা জানান তিনি। নতুন ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক নিয়েই লড়বেন বলে জানিয়েছেন রবিউল।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি তৃণমূলের মূল নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীক দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক।
ফলে একের পর এক প্রতীক বদল, প্রার্থীদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং দলীয় পরিচয় নিয়ে টানাপোড়েনে রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচার ইতিমধ্যেই অন্য মাত্রা পেয়েছে। ৬ অক্টোবরের ভোটের আগে নতুন প্রতীকগুলি কতটা দ্রুত ভোটারদের কাছে পরিচিত করা যায়, এখন সেটিই সংশ্লিষ্ট দলগুলির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।