নিউজ ডেস্ক: শনিবার বিগ বস ২০-এর ‘উইকেন্ড কা ভার’-এ সলমন খানের একেবারে এক অন্য রূপ দেখতে পাওয়া গেল। সপ্তাহান্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একটি ভিডিয়ো দারুণভাবে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে বেশ ক্ষুব্ধ মেজাজে দেখা গেছে। সাম্প্রতিককালে বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কইফের চেহারা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে মাত্রাতিরিক্ত ট্রোলিং চলছে, তার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন ভাইজান।
ক্যাটরিনা সম্প্রতি মা হয়েছেন এবং বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। এই সময়ে তাঁর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে রসিকতা বা উপহাস করা যে অত্যন্ত অনুচিত, সেটাই সলমন স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘কিছু লোক ভালোবাসা ছড়াচ্ছে, আবার কিছু লোক ঘৃণা ছড়াচ্ছে।
আর এই ধরনের ঘৃণা, যা আপনাদের টাকা এনে দিচ্ছে, তা হলো কারও দুর্বল জায়গায় খোঁচা দেওয়ার মতো। আপনারা কাকে নিয়ে মজা করছেন, যিনি সদ্য মা হয়েছেন। তিনি যখন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই আগের চেহারায় ফিরে আসবেন। তিনি এখন তাঁর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করছেন।’
শুধু ক্যাটরিনাই নন, সলমনের নিজের বয়স, চুল কিংবা ফিটনেস নিয়েও ট্রোলাররা নানা সময় মস্করা করে থাকে। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে তিনি এতটাই রেগে যান যে নিজের টুপি এবং টি-শার্টও খুলে ফেলেন। দর্শকের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য, তাঁর বয়স তো এখন ৬০ বছর, তাই সবসময় ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’-র মতো কমবয়সী বা একই রকম দেখতে থাকা কি সত্যিই সম্ভব? তবে তিনি এও স্পষ্ট করে দেন যে তাঁর অসংখ্য ফ্যান ক্লাব রয়েছে এবং এই ধরনের নেতিবাচক ট্রোলিংকে তিনি মোটেও পাত্তা দেন না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘৃণা ছড়ানোর সংস্কৃতি নিয়ে বলতে গিয়ে সলমন একটি পুরনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন। তিনি জানান, বহু বছর আগে তাঁকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করা এক যুবকের বাড়িতে তিনি সাইবার সেলকে দিয়ে তদন্ত করানোর পর সোজা হাজির হয়েছিলেন। সেই যুবকের বাবা-মা ও পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড জেনেই তিনি তাকে সতর্ক করেছিলেন। কারণ অনেকেই অন্যের দুর্বল জায়গায় খোঁচা দিয়ে বা ট্রোল করে সোশ্যাল মাধ্যম থেকে সহজে টাকা কামানোর ধান্দায় থাকে।
সবশেষে অভিনেতা প্রশ্ন তোলেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সিনেমা কিংবা টেলিভিশনের ক্ষেত্রে যেখানে নির্দিষ্ট কড়া নিয়ম এবং সেন্সরশিপের ব্যবস্থা রয়েছে, ঠিক তেমনই কবে সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের আইনি সুরক্ষা বা নিয়ন্ত্রণ আসবে? সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের এই লাগাতার কটাক্ষ যে আর মেনে নেওয়া যায় না, সলমনের এই বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।