নিউজ ডেস্ক: প্রো-ফিলিস্তিনি মন্তব্যের জেরে র্যাপার ম্যাকলেমোরকে নিজের মার্কিন ট্যুর থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিতর্কে অবশেষে মুখ খুললেন ব্রিটিশ পপ তারকা এড শীরান। ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে কনসার্টের আগে দেওয়া বক্তব্যে শীরান স্পষ্ট করেন, ম্যাকলেমোরকে ট্যুর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। তাঁর দাবি, সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন ট্যুরের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ভেন্যুগুলোর কর্তৃপক্ষ।
ম্যাকলেমোরকে ট্যুর থেকে সরানোর সূত্রপাত ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তাঁর একটি পরিবেশনা ঘিরে। সেখানে তিনি ‘Free Palestine’ স্লোগান দেন এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর ট্যুরের বাকি কয়েকটি শোর ভেন্যু কর্তৃপক্ষ ম্যাকলেমোরকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে আপত্তি জানায় বলে ট্যুর প্রোমোটার মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ জানায়। পরে ম্যাকলেমোরকে শীরানের মার্কিন ট্যুরের বাকি শোগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘিরে শীরানের ট্যুরেও প্রভাব পড়ে। ম্যাকলেমোরের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং শীরানের ব্যান্ডের সদস্যদের একাংশ ট্যুর থেকে সরে দাঁড়ান। অন্যদিকে, নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফট জানান, ম্যাকলেমোরের বক্তব্য তাঁর কাছে ইহুদিবিদ্বেষের সীমা অতিক্রম করেছে বলে মনে হয়েছে। ম্যাকলেমোর অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে শীরান জানান, তিনি বরাবরই নিজের অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাখতে চেয়েছেন। তাঁর মতে, কনসার্ট মানুষের জন্য আনন্দ, ঐক্য ও ভালোবাসার জায়গা হওয়া উচিত। কিন্তু গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে এবার নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করে থাকা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
বক্তব্যে শীরান ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলাকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে গাজায় পরবর্তী যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞকে তিনি ‘বিপর্যয়কর’, ‘অন্যায্য’ এবং ‘মাত্রাতিরিক্ত’ বলে বর্ণনা করেন। পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ শিল্পীদের বক্তব্য বা পরিবেশনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নিয়ন্ত্রণ করবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন শীরান। তাঁর বক্তব্য, শিল্পীরা কী বলবেন বা কোন বিষয়ে অবস্থান নেবেন, তা নিয়ে কনসার্টের আগে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বাকস্বাধীনতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টের বাইরে এ নিয়ে প্রতিবাদও হয়। তবে অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়। ফলে ম্যাকলেমোরকে ট্যুর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা এখন শুধু দুই শিল্পীর বিতর্ক নয়; লাইভ মিউজিক, বাকস্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।