নিউজ ডেস্ক: একসময় দেশের হয়ে জাতীয় স্তরে হকি খেলেছেন তিনি। কিন্তু জীবনের কঠিন পরিস্থিতি তাঁকে মাঠ ছেড়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য করে। একা ছেলেকে মানুষ করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ই-রিকশার স্টিয়ারিং হাতে তুলে নেন মালতি। আজ তাঁর গল্প শুধু নিজের লড়াইয়ের নয়, অন্য নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথও দেখাচ্ছে।
লখনউয়ের মালতি মাত্র ৬ বছর বয়সে হকি খেলা শুরু করেছিলেন। ছোট থেকেই খেলাধুলার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় পর্যায়ে ৪ বার ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। খেলাধুলার পাশাপাশি স্পোর্টস অফিসার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে পরিস্থিতি তাঁর পক্ষে ছিল না। বিয়ের পর কঠিন দাম্পত্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হন মালতি। শেষ পর্যন্ত ছোট ছেলেকে নিয়ে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর শুরু হয় একা সন্তানকে বড় করার লড়াই। সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁকে ভাবতে হয়েছে।
এই সময়েই জীবিকার নতুন পথ বেছে নেন তিনি। ২০১৩ সালে ই-রিকশা চালানো শুরু করেন মালতি। তখন লখনউয়ের রাস্তায় মহিলা ই-রিকশা চালক দেখা ছিল অত্যন্ত বিরল। মালতির নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় তিনিই শহরের প্রথম মহিলা ই-রিকশা চালক ছিলেন।
পুরুষ-প্রধান এই পেশায় নামার পর নানা ধরনের দৃষ্টি ও মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। এমনকি যাত্রীদের কাছ থেকেও অস্বস্তিকর আচরণের অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু সেসব কারণে তিনি কাজ ছাড়েননি। নিজের সঙ্গে সবসময় হকি স্টিক রাখতেন বলেও এক পুরনো প্রতিবেদনে জানিয়েছিলেন মালতি।
সবচেয়ে আবেগের জায়গাটি ছিল তাঁর ছেলে। নিজের জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা এবং হকির ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন ছিলেন মালতি। তাঁর ছেলে নিজেও হকি খেলত এবং পরে রেলওয়ের অনূর্ধ্ব-১৪ দলের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মালতির গল্প এখানেই শেষ নয়। নিজের জীবিকা তৈরি করার পর তিনি অন্য নারীদেরও ই-রিকশা চালানো শেখাতে শুরু করেন। অর্থাৎ যে পেশায় একসময় তাঁকে একাই পথ তৈরি করতে হয়েছিল, সেই পথেই পরে অন্য নারীদের এগিয়ে আসতে সাহায্য করেছেন তিনি।
একসময় হকি স্টিক হাতে জাতীয় স্তরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন মালতি। পরে জীবনের প্রয়োজন তাঁকে ই-রিকশার স্টিয়ারিং ধরিয়েছে। কিন্তু দু'ক্ষেত্রেই একটি জিনিস একই থেকেছে—হার না মানার মানসিকতা। তাঁর জীবন দেখিয়ে দেয়, পরিস্থিতি বদলে গেলেও নিজের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সাহস থাকলে নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব।