বাংলাদেশ, নিউজ ডেস্ক: বরিশালের প্যারারা রোডে অবস্থিত দৈনিক সমকালের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রবীণ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ভবনের দ্বিতীয় তলার ওই কার্যালয়টির দরজা ভেঙে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ভিন্ন সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর তিনটার দিকে শ্রীনাথ চ্যাটার্জী লেনের বাসা থেকে বের হন পুলক চ্যাটার্জি। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ মিলছিল না এবং তিনি মুঠোফোনও ধরছিলেন না। পরিবারের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে সমকালের বর্তমান ব্যুরোপ্রধান সুমন চৌধুরী সন্ধ্যায় কার্যালয়ে আসেন। তিনি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পেয়ে ফাঁক দিয়ে সাবেক ব্যুরোপ্রধানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ দ্রুত গিয়ে তালা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, সিআইডি তদন্তে সহায়তা করছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া চিরকুটগুলোর একটিতে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি। বাকি চারটি চিরকুট স্ত্রী, ভাই, সমকালের বর্তমান আঞ্চলিক প্রধান এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে লেখা হয়েছে।
সহকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, পুলক চ্যাটার্জি ২০২৩ সাল পর্যন্ত দৈনিক সমকালের ব্যুরোপ্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরি থেকে অব্যাহতির পর তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী নীলোৎপলা মুখার্জি এবং ভাই দীপক চ্যাটার্জি। সাবেক ব্যুরোপ্রধান হিসেবে অফিসের প্রতি তাঁর টান থাকায় তাঁকে একটি চাবি দেওয়া হয়েছিল, যা দিয়ে তিনি মাঝেমধ্যে এসে সময় কাটাতেন। শুক্রবার অফিসের সহকারী ছুটিতে থাকায় ফাঁকা কার্যালয়ে প্রবেশ করে তিনি এমন চরম পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি বরিশালের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পুলক চ্যাটার্জির সক্রিয় ভূমিকা স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও বিশিষ্ট নাগরিকরা।
ঘটনার পর পুলক চ্যাটার্জির সহকর্মী, সাংবাদিক মহল এবং পরিচিতদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বরিশালের সংবাদমহলে তাঁর বিশেষ পরিচিতি ছিল। পেশাগত জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল বলে জানিয়েছেন সহকর্মীরা। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে বরিশালের সাংবাদিকতা জগতে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মত স্থানীয় সংবাদকর্মীদের।
এদিকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন নথি ও অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য, সহকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না প্রশাসন।




