তামিলনাড়ু, নিউজ ডেস্ক: সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের পুষ্টির মান বাড়াতে এবং শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির হার নিশ্চিত করতে এক বড় পদক্ষেপ নিল তামিলনাড়ু প্রশাসন। চেন্নাইয়ের তিরুভানমিয়ুরের গান্ধী গ্রামের একটি সরকারি মিডল স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রসারিত হল রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় বিনামূল্যে প্রাতরাশ প্রকল্প।
কিংবদন্তি জননেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে. কামরাজের স্মৃতিতে নতুন করে নামাঙ্কিত ‘পেরুনথালাইভার কামরাজার ফ্রি ব্রেকফাস্ট স্কিম’-এর এই বর্ধিত পর্যায়ের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়।
দেখুন: https://x.com/ANI/status/2102244184895980029?s=20
অনুষ্ঠান মঞ্চের আনুষ্ঠানিকতা সেরে কোনো রকম প্রশাসনিক দূরত্ব না রেখে সরাসরি তিনি পৌঁছে যান পড়ুয়াদের মাঝে, মিশে যান সাথে। মিডল স্কুলের শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা ছোট ছোট শিশুদের কাছে গিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন, পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং নতুন এই পুষ্টিকর খাবার তাদের কেমন লাগছে তা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে জেনে নেন। সরকারি এই উদ্যোগ ঘিরে কচিকাঁচাদের চোখেমুখে ছিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। মুখ্যমন্ত্রীকে এত কাছে পেয়ে হাত মিলিয়ে ও কথা বলে মেতে ওঠে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলছুটের সংখ্যা কমানো এবং শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি রোধ করার লক্ষ্যেই কামরাজারের নামে এই ঐতিহাসিক প্রাতরাশ যোজনাকে রাজ্যের আরও বিপুল সংখ্যক স্কুলের আওতাভুক্ত করা হল। তামিলনাড়ুর শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে কামরাজার আমলে চালু হওয়া মিড-ডে মিল এক বিপ্লব এনেছিল। সেই ধারাকেই আরও আধুনিক ও প্রসারিত রূপ দিয়ে এবার সকালের স্বাস্থ্যকর জলখাবার বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করছে বর্তমান প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে ক্লাসে এসে একাগ্রতা হারানো শিশুদের জন্য এই গরম পুষ্টিকর আহার তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বড় ভূমিকা নেবে।
স্কুল চত্বরে এই প্রকল্পের সূচনার সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দফতরের শীর্ষ কর্তা ও স্থানীয় আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের বার্তা দেন, খাবারের গুণমান, পরিচ্ছন্নতা এবং পুষ্টিমূল্যের ক্ষেত্রে যেন কোনো অবস্থাতেই আপস করা না হয়। প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক ঘরের সন্তানদের স্কুলে টানতে এবং তাদের সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়তে এই বর্ধিত প্রাতরাশ নীতি রাজ্যের শিক্ষা মানচিত্রে এক নতুন রূপ দেবে বলে মনে করছেন অভিভাবকরাও। কারণ প্রত্যন্ত এলাকায় অনেকে শিশুই আছে যারা সকালে ঠিক করে খেয়ে স্কুলে যেতে পারেনা, তাই এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার পড়ুয়াদের সার্বিক উন্নয়ন হবে বলে মনে করছেন তারা।