মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পিউ নন্দী: কাজে গাফিলতির জেরে সান ফ্রান্সিসকোয় মানব কর্মীকে বরখাস্ত করল এআই বস ‘লুনা’।
এতদিন মানুষই নির্দেশ দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে দিয়ে কাজ করাত কিন্তু এবার চাকা ঘুরল ঠিক উল্টো দিকে। মানুষের অধীনে এআই নয় বরং এআইয়ের নির্দেশ অমান্য করায় চাকরি খোয়াতে হল এক রক্তমাংসের কর্মীকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোয় ঘটেছে এমনই এক নজিরবিহীন ঘটনা
সেখানকার একটি পরীক্ষামূলক খুচরো বিক্রির দোকানে কর্তব্যরত এক মানব কর্মীকে সরাসরি বরখাস্ত করেছে স্বয়ংক্রিয় এআই বস। বিশ্বে সম্ভবত এই প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে কোনও মানুষকে চাকরি থেকে ছাঁটাই হতে হল।
জানা গিয়েছে, সান ফ্রান্সিসকো ভিত্তিক সংস্থা ‘অ্যান্ডন ল্যাবস’ কর্মক্ষেত্রে মানবসম্পদ পরিচালনায় এআইয়ের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে গত এপ্রিল মাসে ‘অ্যান্ডন মার্কেট’ নামের একটি রিটেল আউটলেট চালু করে। আগামী তিন বছরের জন্য এই স্টোর পরিচালনার যাবতীয় ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয় অ্যানথ্রোপিকের শক্তিশালী ‘ক্লড’ মডেল নির্ভর একটি এআই সিস্টেমের হাতে, যার নাম রাখা হয় ‘লুনা’।
স্টোরটি সাফল্যের সঙ্গে চালানোর জন্য এআই ম্যানেজার লুনাকে দেওয়া হয়েছিল এক লক্ষ মার্কিন ডলারের বাজেট, নির্দিষ্ট ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেটের অবাধ স্বাধীনতা এবং পুরো দোকানের নিরাপত্তা ক্যামেরার অ্যাক্সেস। স্টোরে বই, মোমবাতি ও খেলনার মতো নানা পণ্য নির্বাচন, দরদাম ঠিক করা, কাজের শিফট তৈরি থেকে শুরু করে কর্মী নিয়োগ সব দায়িত্বই সামলাচ্ছিল লুনা।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্টোরের ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি কর্মীদের নিয়মানুবর্তিতার দিকে নজর রাখছিল এই এআই বস। দোকানের তথ্য ও নজরদারি ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে লুনা লক্ষ্য করে, কর্মরত এক কর্মী তাঁর মোট ২৩টি কাজের শিফটের মধ্যে ১৭টিতেই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে দোকানে এসেছেন। টানা এক মাস ধরে ওই কর্মীর কার্যকলাপে নজর রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে এআইয়ের কার্যকারী স্মৃতির সীমাবদ্ধতার জন্য নিজের তৈরি ‘এমপ্লয়ি হ্যান্ডবুক’ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সমস্যা হলেও, সংস্থার মানব গবেষকেরা লুনাকে অভ্যন্তরীণ নীতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এরপরই নিয়মের সার্বিক মূল্যায়ন করে ওই কর্মীকে ছাঁটাই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় লুনা।
অ্যান্ডন ল্যাবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুকাস পিটারসনের মতে, কোনও সাধারণ মানুষ এই পদে বস হিসেবে থাকলে এত দীর্ঘ গাফিলতির জেরে ওই কর্মীকে আরও আগেই ছাঁটাই করতেন। এআই ম্যানেজার অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই ঘটনার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থান মহলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি এভাবে মানুষের কর্মজীবন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ কর্মীদের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।