পুরুলিয়া, নিউজ ডেস্ক: পাহাড়-জঙ্গলের মোড়া পুরুলিয়া জেলা। এই জেলার ঐতিহ্য পাহাড় ও জঙ্গল। প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্যের টানেই দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকদের ভিড় নামে জঙ্গলমহলের এই জেলাতে। কিন্তু প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতি। সরকারি নির্দেশিকাকে রীতিমতো বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পাহাড় ধ্বংস করা হচ্ছে।
পুরুলিয়ার পাহাড়-জঙ্গল বাঁচানোর বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সভা থেকে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল পাহাড় হোক বা অরণ্য, প্রকৃতির গায়ে আর কেউ হাত দিতে পারবে না। কিন্তু সেই নির্দেশের পরেও নাকি থামেনি পাহাড় কাটা। রঘুনাথপুর থানার বেড়ো এলাকার চণ্ডী পাহাড়ে ফের অবাধে গ্রানাইট উত্তোলনের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বারংবার স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও পরিবর্তন হয়নি কোনও কিছুই।
রীতিমতো রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে স্থানীয় মানুষজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন পাহাড় কেটে পাথর তোলার কাজ চলছে। প্রশাসনের কড়া নির্দেশের পরও পরিস্থিতির বদল না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। পাহাড় রক্ষার দাবিতে ‘পাহাড় বাঁচাও কমিটি’র ব্যানারে ইতিমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয়রা।
রাজ্যের পুর ও নগরউন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরে এইভাবে পাহাড় কাটা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলারও আশ্বাস দেন তিনি। এরই পাশাপাশি তিনি গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ না করার জন্য অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুরুলিয়ার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরও কীভাবে পাহাড় কাটা চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর কড়া বার্তা, “দু-তিন ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন শুরু হবে।” তাঁর কথায়, যে সংস্থাকে পাহাড় থেকে পাথর উত্তোলনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে সেই লাইসেন্সও বাতিল করা হবে। পাহাড় ও গাছ ধ্বংসের ক্ষেত্রে কোনও রেয়াত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়ার প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পর্যটনের ক্ষেত্রে পুরুলিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। একইসঙ্গে পাহাড় ও অরণ্য রক্ষার বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল “কোনও পাহাড়ে, কোনও অরণ্যে আজ থেকে আর কেউ হাত দেবে না।”
এই বার্তার পরেও অবাধে চলছে পাহাড় কাটা। আর তাতেই রীতিমত ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসীরা। এবার সাংসদের হুঁশিয়ারির পর প্রশাসন আদৌ কোন পদক্ষেপ গ্ৰহন করে কিনা সেদিকেই তাকিয়ে বেড়ো এলাকার বাসিন্দারা।
