কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: সমুদ্র পথের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পরিকাঠামো, ভারত মহাসাগরকে আগামী দিনে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। আঞ্চলিক দেশগুলির সঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরি করে সেখানে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়াতে চাইছে দুই দেশ। শুধুমাত্র বন্দর নির্মাণ নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও তৈরি হতে পারে নতুন অংশীদারিত্ব। এর নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় কৌশলগত লক্ষ।
ভারত ও আমেরিকা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং মরিশাসের মতো দেশগুলোতে বন্দর ও টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উদ্যোগটি 'ইন্ডিয়ান ওসেন স্ট্র্যাটেজিক ভেঞ্চার' বা IOSV-এর আওতায় বাস্তবায়িত হতে পারে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই পরিকাঠামোকেই এবার আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা চলছে।
মার্কিন বিদেশ দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত বন্দর নির্মাণে যথেষ্ট দক্ষ এবং আমেরিকার কাছে রয়েছে প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ। ফলে, দুই দেশের দক্ষতা ও সম্পদকে একত্রিত করে গুরুত্বপূর্ণ ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলিতে পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বন্দর ছাড়াও ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যতের 6G প্রযুক্তি মান নির্ধারণের ক্ষেত্রেও যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, পরিকাঠামোর গুরুত্ব শুধু উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অবৈধ মাছ ধরা, মানব পাচার এবং মাদক পাচারের মতো সামুদ্রিক অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলিকে আরও সক্ষম গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। বিদেশি জাহাজের গতিবিধির উপর নজরদারি এবং নিজেদের জলসীমা সম্পর্কে আঞ্চলিক দেশগুলির সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্র-সমর্থিত সংস্থাগুলির পরিকাঠামো বিনিয়োগের বিকল্প তৈরি করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সহযোগিতাকে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারত-মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে IOSV নিয়ে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। অক্টোবরের শেষ দিকে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর ভারত সফরের সম্ভাবনার মধ্যেই এই বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হয়েছে। ফলে, ভারত মহাসাগর ঘিরে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের এই নতুন পরিকল্পনা আগামীদিনে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
