গুজরাট, নিউজ ডেস্ক: টানা ভারী বর্ষণে ভাসছে পশ্চিম গুজরাতের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলস্তর হু হু করে বেড়ে শহরের নিম্নাঞ্চলে হড়পা বানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রাণসংশয় দেখা দিয়েছিল বহু মানুষের। জুনাগড়ের এমনই এক জলমগ্ন এলাকায় আটকে পড়েছিলেন প্রায় ৪০ জন বাসিন্দা। তবে খবর পাওয়া মাত্রই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে স্থানীয় দমকল বিভাগ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল ময়দানে নেমে তাঁদের সকলকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
দেখুন: https://x.com/DixitGujarat/status/2101852530737307878?s=20
প্রশাসন সূত্রে খবর,গত চব্বিশ ঘণ্টায় জুনাগড় ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে একনাগাড়ে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। গিরনার পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা জলের তোড়ে শহরের নিচু পকেট ও বসতিগুলিতে দ্রুত জল জমতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জলস্তর বিপজ্জনক উচ্চতায় পৌঁছে গেলে বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট একাকার হয়ে যায়। ওই এলাকায় বসবাসকারী শিশু ও প্রবীণসহ অন্তত ৪০ জন বাসিন্দা জলবন্দি হয়ে পড়েন। চারদিকে প্রবল স্রোত বইতে থাকায় নিজস্ব উদ্যোগে কারও পক্ষে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্থানীয়রা খবর দিলে অতি দ্রুত উদ্ধারকারী সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জুনাগড় দমকল বাহিনীর বিশেষ দল। জলস্ফীতি ও তীব্র স্রোত উপেক্ষা করে দমকলকর্মীরা দড়ি, লাইফ জ্যাকেট এবং রাবারের বোট ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় কয়েক ঘণ্টার টানটান অভিযানের পর জলবন্দি প্রতিটি মানুষকে একে একে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সময়মতো অভিযান শেষ করায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং উদ্ধার হওয়া ৪০ জনই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন। দমকলের এই তৎপরতা ও ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে জুনাগড়সহ সংলগ্ন জেলাগুলিতে আরও দুর্যোগের সতর্কতা জারি থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য কন্ট্রোল রুম চব্বিশ ঘণ্টা সক্রিয় রাখা হয়েছে।