নিউজ ডেস্ক: গ্ল্যামার, খ্যাতি আর সফলতার আলোয় ঘেরা বলিউডের দুনিয়া। কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে রাজত্ব করা অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কইফকে সকলেই চেনে। রূপোলি পর্দার এই জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের সঙ্গে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু আপনি কি জানেন, রুপোলি পর্দার আড়ালে থাকা মানুষটির মা সুজ়ান টরকোটের জীবনটা ঠিক কতটা আলাদা? মেয়ের সাফল্য যখন শিখরে, তখন সুজ়ান বেছে নিয়েছেন এক সাদামাটা, নিঃস্বার্থ সমাজসেবার জীবন।
দেখুন: https://www.instagram.com/p/C_h6BBavgp5/?utm_source=ig_embed&ig_rid=AAzvanzWIp24EyscVYl-WKk
লন্ডনের আরামদায়ক জীবন ছেড়ে ২০০৮ সালে সুজ়ান পাড়ি দেন ভারতের তামিলনাড়ুর এক প্রত্যন্ত গ্রামে। লক্ষ্য একটাই— পিছিয়ে থাকা এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। গ্রামের শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষার জন্য তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গড়ে তোলেন। এরপর ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মাউন্টেন ভিউ স্কুল’। মাত্র ৩০ জন শিশু নিয়ে শুরু হওয়া এই স্কুলটিতে আজ ৩০০-রও বেশি পড়ুয়া পড়াশোনা করছে। একা হাতে আটটি সন্তানকে বড় করা সুজ়ান আজ শত শত শিশুর অভিভাবক।
দেখুন: https://www.instagram.com/p/CqCTO6Pv-8d/?utm_source=ig_embed&ig_rid=AMBA-Od-qq9o3c7kR8iyxYY
মাদুরাইয়ের এই গ্রামীণ জীবন কিন্তু বিন্দুমাত্র সহজ নয়। ক্যাটরিনা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, সেখানে তীব্র গরমের মাঝেও নেই কোনও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ইন্টারনেট বা বিদ্যুতের অভাবে অনেক সময় মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে হাসিমুখে কথা বলাও সম্ভব হয় না, তখন ভরসা কেবল সাধারণ ফোন কল। কিন্তু এতকিছুর পরেও নিজের এই জীবন নিয়ে ভীষণ খুশি সুজ়ান।
মায়ের এই আত্মত্যাগ ও সমাজসেবার গল্প বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ক্যাটরিনা। তিনি জানান, ছোটবেলায় তাঁরা যে দেশগুলিতে থেকেছেন, সেখানে বহু মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করতেন। মায়ের এই মহৎ কাজের সুবাদেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে ছোট থেকেই পরিচিত হয়েছিলেন ক্যাটরিনা ও তাঁর ভাইবোনেরা। ক্যাটরিনা মনে করেন, মায়ের নিঃস্বার্থ সমাজসেবা এবং তাঁর আশীর্বাদই তাঁকে আজকের এই জায়গায় পৌঁছে দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। গ্ল্যামারের দুনিয়ায় থেকে এমন এক মাটির মানুষের সন্তান হওয়া সত্যিই গর্বের।