নিউজ ডেস্ক: দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে বড় স্বস্তি পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। ফ্রিজ হয়ে থাকা দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা খরচ করার অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। প্রতীক ফ্রিজ হলেও তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে বাধা নেই। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ওই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করতে পারবে দল।
দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশের পরেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। সেই পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূলের মমতা শিবির। মামলার শুনানিতে জানানো হয়, দলীয় কাজকর্ম এবং প্রয়োজনীয় খরচ চালানোর জন্য অ্যাকাউন্টগুলিতে থাকা অর্থ ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে। সেই মামলাতেই এবার অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ, দলের সাংগঠনিক এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ফ্রিজ থাকা অ্যাকাউন্টের অর্থ ব্যবহার করতে পারবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। মমতা শিবিরের অনুমোদিত ব্যক্তিদের মধ্যে যে কোনও দু’জন অ্যাকাউন্টের চেকে সই করতে পারবেন। আদালতের নিযুক্ত বিশেষ অফিসার সেই চেকগুলিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করার পর ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ তোলা সম্ভব হবে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ভাঙন ধরেছে তৃণমূলে। দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে দল। এমন পরিস্থিতিতে এক তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগের উপর নির্ভর করে তৃণমূলেরই তিনটি অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। তারপর কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা শিবির। সেই সময় সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, আপাতত এই ৩ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে তৃণমূল। তবে একজন স্পেশাল অফিসার নিযুক্ত করা হয়। এবার সেই ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
অন্যদিকে সদ্য দলের নাম-প্রতীক হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াইয়ের ফলে নির্বাচন কমিশন আপাতত তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিল। দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরেও তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে আইনি লড়াই চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে হাই কোর্টের এই নির্দেশ মমতা শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।