কোলাঘাট, নিউজ ডেস্ক: পুজোর মরশুমে এলাকায় যখন উৎসবের উত্তেজনা তুঙ্গে, তখনই সামনে এল এমন এক অভিযোগ যা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। রশিদে রয়েছে একাধিক জনপ্রতিনিধির নাম, ব্যবসায়ীদের কাছে চাওয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। অভিযোগ প্রকাশে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপা উত্তেজনা।
কোলাঘাটের দেউলিয়ায় এবছর 'শতদল সংস্থা'র উদ্যোগে দুর্গাপূজো শুরু হয়েছে। খুঁটি পূজোতে পূর্ব পাঁশকুড়ার বিধায়কসহ কোলাঘাট ব্লকের বিডিও এমনকি পুলিশ অফিসাররাও উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যে পালা পরিবর্তনের পরেই উৎসাহী কিছু যুবকেরা এই পূজোর প্রথম সূচনা করার পরিকল্পনা করেন। তবে প্রথম বছরই তাল কাটলো পুজোর। প্রথম বছরই দেউলিয়া বাজার থেকে শুরু করে বড়দাবাড়,পদুমপুর সহ একাধিক জায়গায় জাতীয় সড়কের পাশে দোকানদারদের উপর মোটা অঙ্কের চাঁদার রাসিদ কেটে রীতিমতো হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠলো শতদল পুজোকমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ উঠেছে, দু'শো পাঁচশো টাকা থেকে শুরু করে পঁচিশ হাজার টাকা পর্য়ন্ত ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের চাঁদা দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি, চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে, এমন হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হাতেহাতে টাকা না দিলে যেন পার্টি অফিসে গিয়ে টাকা দিয়ে আসে,এমনই গুরতর অভিযোগ তুললো কোলাঘাট থেকে বড়দাবাড় এলাকার ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে অসংখ্য ব্যবসায়ীদের।
কারোর ৫০০ টাকা,কেউ দিনআনা দিন খাওয়া ছোট দোকানদার তাদের ৩০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা চাঁদা কেটে যায় পুজো উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে, পদুমপুর গ্রামে এক বস্তা ব্যবসায়ী ফারক দত্তকে ২৫ হাজার টাকার চাঁদা কেটে যান। আবার বড়দাবাড়ের মা শীতলা হোটেলে ১০ হাজার টাকা চাঁদা কেটে যান। একই সঙ্গে, বড়দাবাড় গ্রামে টায়ার সারাই দোকানে সেক মুরসেদকে ৩০০০ টাকা চাঁদা কাটে পুজো উদ্যোক্তারা। চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে, এই ঘটনায় কোলাঘাট এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চাঁদার বিলে বিধায়ক সুব্রত মাইতির নাম জড়িয়ে থাকায় বিতর্ক আরও বাড়ে। তবে, এই ঘটনা জানার পরই বিধায়ক সুব্রত মাইতি সাফ জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং পুজো কমিটির পদেও নেই। তার নাম ব্যবহার করে টাকা চাওয়া হলে ব্যবসায়ীদের টাকা না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছে। কোলাঘাট মন্ডল ৪ এর সভাপতি বোধন দে বলেন, বিজেপির নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যাক্তি দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। ঘটনার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি, জেলাশাসকের দফতর এবং কোলাঘাট থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, এই বিষয়ে পুজো কমিটির তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।