কলকাতা, রেশমি ব্যানার্জি -
কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় হোটেলের একাধিক অংশ। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায় হোটেলের কর্মী ও অতিথিদের মধ্যে। কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৯। বুধবার রাতের এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আগুন লাগার পর হোটেলের ভিতরে আটকে পড়া একাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামে দমকল ও পুলিশ। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ঘটে যায় বড়সড় বিপর্যয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, হোটেলের একটি অংশে আচমকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন তলায়। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও কয়েকজন ভিতরে আটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। আগুনের খবর পৌঁছাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। শুরু হয় উদ্ধার কাজ। উদ্ধার হওয়া আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক কয়েকজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সময় যত গড়িয়েছে ততই বেড়েছে মৃতের সংখ্যা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কি কারণ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট, বৈদ্যুতিক গোলযোগ নাকি অন্য কোনও কারণে আগুনে সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও দমকল। হোটেলের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, জরুরী পরিস্থিতিতে বেরোনোর পর্যাপ্ত রাস্তা ছিল কি না এবং নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না- এই প্রশ্নগুলি তদন্তের কেন্দ্রে।
সূত্রে খবর, ঘটনার পর হোটেলের ম্যানেজারকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলে কতজন ছিলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ কি পদক্ষেপ নিয়েছিল- এই সমস্ত বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে তদন্তকারীরা। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মৃতদের পরিচয় সনাক্ত করার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে প্রশাসন।
৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে শহরের হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।