গত ৩০শে জুন হলদিয়ার চিরঞ্জীবপুর এলাকায় একটি কারখানার পাইপলাইনে আকস্মিক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই বিধ্বংসী আগুনের গ্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিল্প শহরের একাধিক কারখানার পাইপলাইন। একই সঙ্গে সংলগ্ন এলাকার বেশ কিছু ঝুপড়ি বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে এবং বহু গাছপালা ও পশুপাখির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এই দুর্ঘটনায় দু’জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নড়েচড়ে বসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। কারখানার পাইপলাইনগুলির নজরদারি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে গত মঙ্গলবার হলদিয়া ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হলদিয়ার মহকুমা শাসক সুরভি সিংলা। এছাড়াও ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল, এইচপিএল,অক্সাইড-সহ প্রায় ৩৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি শিল্প সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ত্রুটি ও তা সংশোধনের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভবিষ্যতের এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন-- "হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের মাটির তলা দিয়ে বা ওপর দিয়ে যত পাইপলাইন গিয়েছে, আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে তার একটি সুনির্দিষ্ট নকশা বা ম্যাপ জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করতে অবিলম্বে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং নিয়মিত পেট্রোলিং বা টহলদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, চরম ঝুঁকি নিয়ে পাইপলাইনের আশেপাশে যারা বসবাস করছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের দ্রুত ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।"
অন্য দিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে উদ্ভূত বাণিজ্যিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হলদিয়া ইন্ডিয়ান ওয়েলের জিএম (টেকনিক্যাল) অবিকার পাল। তিনি জানান, "আগুনের তীব্রতায় এলপিজি গ্যাসের পাইপলাইনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এটি মেরামত করা না যায়, তবে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বাজারে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।" তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, "দ্রুত মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হলে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা যাবে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।" দুর্ঘটনা পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন যে সমস্ত সময়োপযোগী ও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, বৈঠকে উপস্থিত সমস্ত শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরা তাকে একযোগে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।