নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি দেখা গিয়েছিল নেপালে ভূমিধস।তার ফলে হয়েছিল বিধ্বংসী বন্যা! আর তারই রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার ভূমিধসের মুখে পড়ল সিকিম। এর আগেও সিকিমে ভূমিধসের ইতিহাস রয়েছে। আর এ কারণেই সিকিম ভূমিধস নিয়ে যথেষ্টই চিন্তিত পরিবেশবিদ মহল। অন্যদিকে একাধিকবার ধস নামার কারণে সিকিম জুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। কোথাও গিয়ে, সিকিমের এই ভূমিধস স্থানীয় মানুষদের মনে ফিরিয়ে আনছে নেপাল বিপর্যয়ের স্মৃতি।
সিকিম প্রশাসন জানিয়েছে- 'ইউকসম-তাশিডিং নির্বাচনী এলাকার রিম্বি গ্রামে বিশাল ভূমিধস নেমে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পাথর-মাটিতে তলিয়ে রিম্বির সঙ্গে ইউকসম ও খেচুপরি সংযোগকারী প্রধান রাস্তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়কের উপর দিয়ে রীতিমতো কাদার স্রোত বয়ে গিয়েছে। এর ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে রাস্তার ওপর এসে পড়ায় পুরো এলাকা মাটি, পাথর ও ভারী ধ্বংসস্তূপে ঢেকেছে। ব্যাপক ভূমিধসে রাস্তার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ পথটি দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করাও রীতিমতো বিপজ্জনক হয়েছে।'
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন 'পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের পাদদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।' জানা গিয়েছে বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন- বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ঘটতে চলেছে আরও ভূমিধসের ঘটনা! এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন- 'বর্ষাতেই এই এলাকায় এমন সমস্যা দেখা দেয়। বৃষ্টি আরও বাড়লে ফের পাহাড় ধসে পড়তে পারে।' তারা আরো বলেন 'বারবার ভূমিধস ঠেকাতে পাহাড়ের ঢাল সুরক্ষিত করা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং স্থায়ী নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরি করা জরুরি।
জেনে রাখা ভাল, 'রিম্বি-ইউকসম' সড়কস্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটক- সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি সংযোগ পথ। এ কারণেই এটি বন্ধ হয়ে যাওয়াতে পর্যটকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে সব থেকে বড় উদ্বেগের কারণটি হল, ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের ঢাল এখনো স্থিতিশীল হয়নি। এই কারণেই সড়কের কাছাকাছি বসবাসকারী বাসিন্দারা বলছেন,তারা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত! তাঁরা কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছেন, যেন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ওই ঝুঁকিপূর্ণ ঢালটির দ্রুত পরীক্ষা করানো হয়। এরপর প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা যেন গড়ে তোলা হয়। না হলে, বারবার এই ভূমিধসে সিকিমের যা অবস্থা দাঁড়িয়েছে-তা কিন্তু যথেষ্ট বিপর্যয়ের দিকে চলে যেতে পারে! হয়তবা কোথাও গিয়ে দ্বিতীয় নেপাল বিপর্যয়েরও ভয় করা হচ্ছে।