নিউজ ডেস্ক: হাইকোর্টের নির্দেশের পর এবার মাহেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবিত জনসভা নিয়ে আপত্তি জানাল শ্রীরামপুর মাহেশ জগন্নাথ ট্রাস্ট। মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের পাশে স্নানপিড়ির মাঠে শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা করার কথা ছিল। কিন্তু ওই জায়গায় রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানায় মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় স্থানের সঙ্গে যুক্ত এলাকায় রাজনৈতিক সভা করা উচিত নয়। সেই আপত্তির ভিত্তিতেই আদালতের দ্বারস্থ হয় জগন্নাথ ট্রাস্ট।
মাহেশ জগন্নাথ ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষের হয়ে তাঁরা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। আদালতে তাঁদের বক্তব্য ছিল, মাহেশের মতো ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থানের পাশে রাজনৈতিক সভা হলে মন্দিরের ধর্মীয় পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। পাশাপাশি স্নানপিড়ির মাঠ ব্যবহার নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। বিষয়টি শুনে আপাতত ওই মাঠে সভা না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ফলে শুক্রবার মাহেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার শর্তসাপেক্ষে হুগলিতে সভা করার অনুমতি দিয়েছিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। কিন্তু তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যান রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য। রাজ্যের মূল যুক্তি ছিল, যে মাঠে সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেটি একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং মূলত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কাজের জন্যই তা বরাদ্দ করা হয়। মাহেশের রথের মেলার সময় এই জমি ব্যবহার করা হলেও, জমির মালিকপক্ষ সাফ জানিয়েছে যে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য জমিটি দিতে ইচ্ছুক নয়।
জানা গিয়েছে, সভার জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজতে রাজ্যকে বলা হয়েছে। আগামীকাল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি ফের শুনানি হওয়ার কথা। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের পরই সভার স্থান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা কবে এবং কোথায় হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। এদিকে সভা স্থগিত রাখার বিষয়টি সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত সভা স্থগিত রাখা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাহেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছিল জোর চর্চা। তার মধ্যেই মন্দির কর্তৃপক্ষের আপত্তি এবং আদালতের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে বদলে গেল কর্মসূচির পরিকল্পনা। এখন ডিভিশন বেঞ্চের পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল।