দিল্লি, নিউজ ডেস্ক : যেই জায়গাকে ঘিরে কয়েক মাস আগেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, শুক্রবার সেই এলাকাতেই জমায়েতের আশঙ্কা। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরের না যায় তার জন্য আগেভাগে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তর থেকে নিউ দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সম্ভাব্য বিক্ষোভ এড়াতে প্রায় চার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, ২ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। তবে, এই কর্মসূচির জন্য দিল্লি পুলিশের অনুমতি মিলেনি। ইতিমধ্যেই অন্তত কুড়িটি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কোম্পানি পাঠনো হয়েছে। যন্তর মন্তর এবং সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের মোতায়েন করা হয়েছে। আগেরবার বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা থেকে এবার একাধিক বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, যন্তর মন্তরে খাবার ও জল পৌঁছে দেওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বহু মানুষের উপস্থিতি বজায় ছিল। এবার বিক্ষোভস্থলে খাবার সরবরাহের বিষয়েও বিশেষ নজর রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, আগের বিক্ষোভের সময় কিছু দুষ্কৃতি ভিড়ের সুযোগ নিয়েছিল।
এছাড়াও, যন্তর মন্তর ও নিউ দিল্লির ভাঙ্গা ফুটপাত এবং দেওয়ালকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, আগেরবার বিক্ষোভে ভাঙ্গা ফুটপাতে পাথর তুলে নিরাপত্তা কর্মীদের দিকে ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবার যেই জায়গা গুলিতে মেরামতি সম্ভব হয়নি সেগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিউ দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।একইসঙ্গে বিক্ষোভ সামলানোর প্রশিক্ষণেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীরা মোবাইলে পুলিশ কর্মীদের ছবি তুললে বা লাইভে এলে যাতে কোনও কর্মী উত্তেজিত হয়ে প্রতিক্রিয়া না দেখান, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গত দুই মাসে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অ্যান্টি-রায়ট ড্রিল হয়েছে।
এদিকে, আগের বিক্ষোভে নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে প্লাস্টিক প্লেটের ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্ট ৫ সদস্যের একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এবার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন থাকলেও কোনও ধরনের প্লেট ব্যবহার না করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বিক্ষোভকারীরা বড় সংখ্যায় এসে গ্রেফতারের বরণ করতে চাইলে পরিস্থিতি সামলাতে শহরের কয়েকটি বড় স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। নিউ দিল্লিতে ঢোকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ পথও বন্ধ করা হতে পারে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
