কলকাতা, পিউ নন্দী: জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম্’-এর সম্পূর্ণ অংশ গাওয়ার প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক তরজা নিল নতুন মাত্রা। সম্প্রতি কংগ্রেস তাদের কর্মসূচিতে গানটির প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই বিজেপি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। এই আবহে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে সম্পূর্ণ গানটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে পদ্ম শিবিরের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেন প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর।
এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর জানান, ভারতে একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী এমন বহু ধর্মাবলম্বী মানুষ রয়েছেন, যাঁদের পক্ষে 'বন্দে কালী' বা 'বন্দে দুর্গা'-র মতো দেবদেবী-কেন্দ্রিক পংক্তিগুলি উচ্চারণ করা ধর্মীয় কারণে কঠিন হতে পারে। তাঁর মতে, প্রথম দুটি স্তবকে যেহেতু কেবল মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে, তাই সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে সেটুকুই যথেষ্ট।
কঙ্গনা ও শমীকের পাল্টা আক্রমণ শর্মিলার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি নেত্রী তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত তাঁকে 'হিন্দু-মুসলিম মানসিকতার ঊর্ধ্বে' ওঠার বার্তা দেন। এর পরই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রবীণ অভিনেত্রীকে ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করেন।
শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, 'শর্মিলা ঠাকুর ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করতেই পারেন। তবে যিনি ভারতে আক্রমণ চালিয়ে মন্দির ধ্বংস, ধর্মান্তরণ ও রক্তপাত ঘটিয়েছিলেন, সেই আক্রমণকারী তৈমুরের নামেই ওঁর নাতির নামকরণ করা হয়েছে। তাই 'বন্দে মাতরম্' নিয়ে উনি যত কম কথা বলবেন, ততই মঙ্গল।'
উল্লেখ্য, সইফ আলি খান ও করিনা কাপুর তাঁদের বড় ছেলের নাম 'তৈমুর' রাখার পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়েছেন। যদিও করিনা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে 'তৈমুর' শব্দের অর্থ 'লোহা' বা 'ইস্পাত', এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ মানসিক দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবেই এই নাম রাখা হয়েছিল। নয় বছর আগের সেই পুরনো বিতর্ককে টেনে এনেই এবার 'বন্দে মাতরম্' আবহে শর্মিলা ঠাকুরকে কটাক্ষ করল গেরুয়া শিবির।