শোকের মুহূর্তে প্রিয়জনকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে এসে যদি ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে সেই যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। এমনই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিলিগুড়ির এক গুরুত্বপূর্ণ শ্মশানে আশা একাধিক পরিবারকে। সকাল থেকে অপেক্ষা করেও মিলছে না দ্রুত দাহকার্যের সুযোগ। পরিস্থিতি নিয়ে খুব বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শ্মশানের পরিষেবা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
শিলিগুড়ির কিরণচন্দ্র শ্মশানের পরিষেবা ঘিরে এমনই অভিযোগ সামনে আসায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। শোকের মুহূর্তে এই দীর্ঘ অপেক্ষা একদিকে যেমন পরিবারগুলির দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে শ্মশানের পরিকাঠামো ও যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শ্মশানে আসা একাধিক পরিবারের অভিযোগ, সেখানে থাকা তিনটি চুল্লির মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি চালু রয়েছে। ফলে দাহকার্যের জন্য অপেক্ষমাণ মৃতদেহের সংখ্যা বাড়ছে। অভিযোগ, সকালে শ্মশানে পৌঁছেও কোনও কোনও পরিবারকে দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না পেরে এক ব্যক্তি মৃতদেহ নিয়ে অন্য শ্মশানে চলে গিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চুল্লিগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা।
এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে শ্মশানের পরিকাঠামো নিয়ে। প্রিয়জনকে হারানোর পর এমনিতেই তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। তার উপর দাহকার্যের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তাই দ্রুত চুল্লিগুলি মেরামত করে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করারও আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
শ্মশানের এক কর্মীর বক্তব্য, সেখানে মোট তিনটি চুল্লি রয়েছে। এর মধ্যে একটি বর্তমানে চালু রয়েছে। বাকি চুল্লিগুলির মেরামতির প্রয়োজন হয়েছে। একটি চুল্লি মেরামতের জন্য কলকাতা থেকে বিশেষজ্ঞদের আসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন তৃতীয় চুল্লিতেও যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। দাহের সময় মৃতদেহ নির্দিষ্ট স্থানে আটকে না থেকে ট্রলির সঙ্গে বাইরে চলে আসার আশঙ্কা থাকায় সেটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। শ্মশান কর্মীর দাবি, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এই সমস্যা চলছে। বিকল চুল্লিগুলি মেরামতের কাজ চলছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, কবে নাগাদ সবকটি চুল্লি পুরোপুরি চালু হবে, তা স্পষ্ট নয়। ফলে, আপাতত একটি চুল্লির উপর নির্ভর করেই চলছে দাহকার্য। শোকের সময় সাধারণ মানুষকে যাতে এমন দুর্ভোগের মুখে পড়তে না হয়, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন শিলিগুড়ির বাসিন্দারা।