বিহার, পিউ নন্দী: স্কুলের মিড-ডে মিলে নজির মিলল চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার। খাবারের স্বাদ বাড়াতে অতিরিক্ত লবণ চেয়েছিল খুদে পড়ুয়ারা আর তার বদলে তাদের পাতে পরিবেশন দেওয়া হল কাপড় কাচার ক্ষতিকারক ডিটারজেন্ট পাউডার। বিষাক্ত সেই খাবার খেতেই একের পর একে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। তীব্র পেটের যন্ত্রণা ও বমি শুরু হয় প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীর।
ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের নালন্দার নূরসরাই থানা এলাকার পারসি মিডল স্কুলে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়। জানা গেছে, খাবারটি অন্য একটি স্কুল থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল। পরিবেশন করা সয়াবিনের তরকারিতে লবণ কম থাকায় পড়ুয়ারা বাড়তি লবণ চায় কিন্তু অসাবধানতা বশত রান্নাঘরের মিড ডে মিল কর্মীরা লবণের বদলে তাদের হাতে ডিটারজেন্ট পাউডার ধরিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা না বুঝে তা তরকারিতে মিশিয়ে খেতেই ঘটে বিপত্তি। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তড়িঘড়ি তাদের বিহার শরীফ মডেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে সকল শিক্ষার্থীর অবস্থায় স্থিতিশীল বলে জানা গেছে হাসপাতাল সূত্রে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দ্রুত হাসপাতালে যান বিহারের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শ্রবণ কুমার। তিনি অসুস্থ শিশুদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেন। মন্ত্রী জানান, শিশুদের জীবন নিয়ে এমন বিপজ্জনক ছিনিমিনি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।খাদ্যসামগ্রীর এত কাছে কীভাবে ডিটারজেন্ট রাখা হল এবং খাবার সরবরাহের প্রক্রিয়ায় কার গাফিলতি ছিল,তা জানতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
শিশুরা বুঝতে না পারলেও কিভাবে মিড ডে মিলের কর্মী শিশুদের নুনের বদলে ডিটারজেন্ট পাউডার দিলেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই বলছেন নুনের প্যাকেট ও ডিটারজেন্ট-এর প্যাকেট দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা তাহলে কিভাবে এই ভুল করতে পারেন একজন কর্মী। স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতের কারণে ঘটতে পারত যেকোনো বড় ঘটনা বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। আবার অনেকেই দায়ী করছেন যাচাই না করে কর্মী নিয়োগ নিয়ে।
তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে নিয়ে আসা সকল শিশুই বর্তমানে চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছে, পরিস্থিতি আগের থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। ডিটারজেন্ট পাউডার খেয়ে ফেলাতেই তাদের গলা জালা ও বমি শুরু হয় কারণ ডিটারজেন্টে যে ধরনের কেমিক্যাল থাকে তা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সময়ের মধ্যে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসার কারনে কোন বড় বিপত্তি ঘটেনি।