কোচবিহার, নিউজ ডেস্ক: বৈঠক শেষ হতেই বদলে গেল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জেলার একাধিক সমস্যা নিয়ে এবার সরাসরি বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে সীমান্ত, মহিলাদের নিরাপত্তা থেকে নেশার বিরুদ্ধে অভিযান, একাধিক বিষয়ে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোচবিহারের মানুষের জন্য রইল বিশেষ বার্তা।
প্রশাসনিক বৈঠকের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কোচবিহারের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ থাকবে। রাজবংশী মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষ চাইলে যেকোনও সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। প্রয়োজনে তিনি আবার কোচবিহারে আসবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে কোচবিহারে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ঘাটতি নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কোচবিহার মেডিকেল কলেজ নিউরো এবং ক্যাথল্যাব পরিষেবার অনুপস্থিতির বিষয়টি। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ফলে, মেডিকেল কলেজের উন্নয়নের জন্য কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে, কোচবিহার যেহেতু আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলা তাই সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনকে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও মহিলার উপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট, এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
এর পাশাপাশি নেশার বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারকে সমস্ত ধরনের নেশা মুক্ত করার লক্ষ্যে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ৯ মে ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কোচবিহারের প্রশাসনিক বৈঠকের পর তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সীমান্ত নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা এবং নেশাবিরোধী অভিযান, এই চারটি ক্ষেত্রেই বিশেষ গুরুত্ব পেল।