আপাতত একটু হলেও তাঁর স্বস্তি মিলল! যার কথা বলা হচ্ছে তিনি সাংসদ এবং তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মুহূর্তে তাঁর নামে বেশ কয়েকটি গুরুতর মামলা এবং অভিযোগ রয়েছে। সেবাশ্রয়,ডিজে কান্ড, কোভিড পরীক্ষা দুর্নীতি এগুলি তার মধ্যে অন্যতম। একই সাথে তাঁর নামে জুড়েছে বৈধ প্ল্যান-নথিপত্র ছাড়াই দলীয় কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ।
এর ফলস্বরূপ ওই 'অবৈধ' দলীয় কার্যালয় ভাঙতে তৎপর হয় প্রশাসন। নিয়ে আসা হয় তিনটি বুলডোজার। ভাঙা হয় ওই কার্যালয়ের বেশ কিছু অংশ। এই ঘটনায় আর স্থির থাকতে পারেননি তৃণমূলের 'যুবরাজ'। তিনি আইনের দ্বারস্থ হন। স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন হাইকোর্টে। আদালত তাঁর আর্জি মঞ্জুর করে। স্থগিতাদেশ জারি হয় ৬ই আগস্ট পর্যন্ত। এরমধ্যেই আজ,সেই স্থগিতাদেশের সময়সীমা বাড়ালো হাইকোর্ট। স্থগিতাদেশের মেয়াদ বেড়ে এইমাসের, অর্থাৎ আগস্টের ২১ তারিখ পর্যন্ত করার পক্ষে রায় দিয়েছেন বিচারক শুভ্রা ঘোষ। কিন্ত, ঠিক কী হয়েছিল এই মামলায়? বলা ভালো এই ঘটনায়?
প্রসঙ্গত, ওই নির্মাণ ঘিরে একাধিক অভিযোগ ওঠে।তলবও করা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বলাই বাহুল্য আমতলা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। তাই এক্ষেত্রে তাকে তলব করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসন। কিন্ত পরপর দুটি নোটিশে তিনি সাড়া দেননি। অগত্যা! আসরে নামে প্রশাসন। 'অবৈধ' দলীয় কার্যালয়টি ভাঙার কাজ শুরু হয়। এরপর সেই কাজেই স্থগিতাদেশ জারি করতে আসরে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবি কিশোর দত্ত। তিনি অভিষেকের কোম্পানি 'লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস'র তরফে রাজ্যের তরফে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করলেন।তার কারন, ওই জমি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডের অধীন। এছাড়াও সেখানে নাম আছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। জবাবে রাজ্যের তরফে আইনজীবি জানালেন তারা ওই কোম্পানির জমির দুটি দাগ নম্বর ৫০৯ এবং ৫১২-তে ভাঙাভাঙি করেননি। ভাঙাভাঙি হয়েছিল অন্যত্র,দাগ নম্বর ৫০৭।তাই রাজ্যের তরফে নির্দেশনামা প্রত্যাহার করার আর্জি ওঠে।
এক্ষেত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবির যুক্তি কেন,কী কারনে, কোন নথিপত্রের ভিত্তিতে এই ভাঙচুর হল তা খুলে বলেননি রাজ্যের তরফের আইনজীবি। এমনকি এই ক্ষেত্রে তাদের কোন বক্তব্য শুনতেই চাননি রাজ্য। সব শুনে বিচারক স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত নেন। এই মুহূর্তে যার মেয়াদ বাড়লো। ফলে একটু হলেও স্বস্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।