তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশকেই হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক নেতার বিরুদ্ধে। থানা থেকে চাঁচল মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানে ওঠার আগে পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন ,'পাঁচ বছর পর দেখে নেব'। ঘটনাকে ঘিরে মালদহের রতুয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রে খবর, ধৃতের নাম শ্রবণ কুমার দাস। তিনি সামসি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান এবং বর্তমানে পঞ্চায়েত সদস্য বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় এলাকায় তিনি রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই নেতার বিরুদ্ধে শুধু তোলাবাজি নয়, সরকারি কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা দেওয়ার পরেও কাজের বরাতটি মেলেনি। এমনকি, টাকা চাইতে গেলে উল্টে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হত বলেও অভিযোগ। এক অভিযোগকারী ঠিকাদার ওয়াসিম আকরামের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের সরকারি কাজ পাওয়ার জন্য তিনি শ্রবণ কুমার দাসকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন কিন্তু তারপরেও তিনি কাজ পাননি।
পাশাপাশি, ধৃত নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে রতুয়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাকে চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ পাঁচ দিনের হেফাজত চেয়েছে। তবে আদালতে যাওয়ার সময় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন ধৃত নেতা এবং বলেন,'রাজনৈতিক ইস্যুতে গ্রেফতার করা হয়েছে। পার্টি অফিস করতে দিইনি কলেজের সামনে, তাই এগুলো। তবে বলছি, সরকার থাকবে না। সরকার পাঁচ বছর পর চেঞ্জ হবে।' ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তোলাবাজি ও অন্যান্য জমি সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ধৃতের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তাও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।