কোচবিহার, নিউজ ডেস্ক: কোচবিহারের কৃষি দফতরের একটি বৈঠক। বাইরের থেকে দেখলে আর পাঁচটা প্রশাসনিক বৈঠকের মতই। কিন্তু, বৈঠক শেষে কৃষি মন্ত্রীর কয়েকটি বক্তব্য ঘিরে তৈরি হলো নতুন জল্পনা। রাজ্যের কৃষি ক্ষেত্রে আসতে পারে বড় বিনিয়োগ, বিশেষ করে জৈব চাষে। শুধুমাত্র তাই নয়, কৃষকদের দীর্ঘদিনের সার সমস্যা এবং দফতরের পরিকাঠামো গত ঘাটতি নিয়েও একাধিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলেছে।
রাজ্যে অর্গানিক ফার্মিং-এ আসবে বিনিয়োগ বড় দাবি করলেন রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী দুধকুমার মন্ডল। কোচবিহার জেলাশাসকের কনফারেন্স রুমে কৃষি আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। জেলায় কৃষি পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে। উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও। কর্মী সংকট থেকে শুরু করে কৃষকদের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, বিভিন্ন বিষয়ে উঠে আসে আলোচনায়। কৃষি দফতরে কর্মী সংকট রয়েছে জেলায়। কোচবিহারে রয়েছে মোট পাঁচটি মহকুমা। তবে, ৫ টি মহকুমা থাকলেও চারটি মহকুমা কৃষি দফতর রয়েছে। আরও একটি বাড়ানো হবে। তুফানগঞ্জ এখনও কোচবিহার সদর মহকুমার সঙ্গে যুক্ত। এবার তুফানগঞ্জ এ পৃথক কৃষি দফতর তৈরীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। প্রশাসনিক পরিকাঠামো বাড়লে এলাকার কৃষকদের পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বৈঠকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সারের কালোবাজারি। বিশেষ করে আলু চাষের মরশুমে প্রতিবছরই সারের ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ উঠে। কোথাও বেশি দামে সার বিক্রি, কোথাও আবার প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার জন্য কৃষকদের আন্দোলনে নামতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতি বদলাতে কৃষকদের জন্য আইডি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের তথ্য নথিভূক্ত থাকলে সার বন্টনের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়বে এবং সারের কালোবাজারী অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা কৃষিমন্ত্রীর। এর পাশাপাশি রাজ্যে অর্গানিক ফার্মিং বা জৈব চাষকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তৃণমূল আমলে কেন্দ্রের সাথে সুসম্পর্ক ছিলনা রাজ্যের। নতুন সরকার আসার পরে ডাবল ইঞ্জিন এর গতিতে উন্নয়নের পরিকল্পনা হচ্ছে। কৃষি ক্ষেত্রে বিনিযোগ আনার জন্য কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে দাবি। শুধুমাত্র আর্থিক বিনিয়োগ নয়, কৃষকদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্গানিক ফার্মিং জোর দেওয়া হবে।
কৃষি মন্ত্রীর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কোচবিহারের বৈঠক তাই শুধু প্রশাসনিক পর্যালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকল না। বরং রাজ্যের কৃষি ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নতুন বিনিয়োগ ও জৈব চাষের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি করল নতুন প্রত্যাশা।
