মাইগ্রেনের সমস্যা এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। মাথার একদিকে ব্যথা, আলো-শব্দে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব—মাইগ্রেনের কারণে দৈনন্দিন জীবন কার্যত ব্যাহত হতে পারে। ব্যথা শুরু হলেই অনেকেই নানা উপায় অবলম্বন করেন। কিন্তু কিছু সাধারণ ভুল অভ্যাস মাইগ্রেনের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ব্যথা শুরু হওয়ার পর অনেকেই প্রথমে অপেক্ষা করেন, যদি নিজে থেকেই ব্যথা কমে যায়। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, মাইগ্রেনের ওষুধ থাকলে একেবারে শুরুতেই তা নেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। দেরি হলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে মাথাব্যথা ২-৩ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং বেশি ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যথা কমাতে বারবার পেনকিলার খাওয়াও বিপজ্জনক অভ্যাস হতে পারে। যে ওষুধ ব্যথা কমানোর জন্য খাওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত ব্যবহারে সেটিই উল্টে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পেনকিলার ব্যবহারে পাকস্থলীতে আলসার ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসক।
মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কম ঘুম নয়, রাতে দেরি করে ঘুমানো বা সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত ঘুমও অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ট্রিগার হতে পারে। তাই প্রতিদিন ঘুম ও জাগার সময় যতটা সম্ভব নির্দিষ্ট রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কোন পরিস্থিতি বা অভ্যাসে মাইগ্রেন বাড়ে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, জল কম খাওয়া, আবহাওয়ার পরিবর্তন, পারফিউমের গন্ধ, চকোলেট বা নির্দিষ্ট কোনও খাবার হিসেবে কাজ করতে পারে।
মাইগ্রেনকে সাধারণ মাথাব্যথা হিসেবে এড়িয়ে যাওয়াও বড় ভুল। এটি একটি স্নায়বিক সমস্যা। মাথাব্যথার পাশাপাশি বমি, আলো ও শব্দে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা, ‘ব্রেন ফগ’, মাথা ঘোরা বা ভার্টিগোর মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে আরও গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই বারবার মাইগ্রেনের সমস্যা হলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।