কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় (Congo Plane Crash) কঙ্গোয় মৃত্যু হল অন্তত ১৪ জনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন সে দেশের সেনাবাহিনীর দুই শীর্ষ আধিকারিকও। শুক্রবার কঙ্গোর সেনাবাহিনীর তরফে এই দুর্ঘটনার খবর জানানো হয়েছে। মৃত দুই সেনা আধিকারিক হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুতোম্বো কাতালাই টিয়েন্দে এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল বাকুমি লিকুলিয়া। প্রথমজন সে দেশের সামরিক আদালতের প্রধান। দ্বিতীয়জন কঙ্গোর সশস্ত্র বাহিনীর অডিটর জেনারেল। তাঁদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কঙ্গোর সামরিক মহলে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।
একটি বিবৃতিতে কঙ্গোর সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল এফোমি একেঙ্গে জানিয়েছেন, ওই দুই শীর্ষ আধিকারিক ছাড়াও দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে প্রতিনিধি দলের ১২ জন সদস্য এবং বিমানকর্মীদের। শুক্রবার সেনাবাহিনীর তরফে দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আনা হলেও ঠিক কতজন যাত্রী বিমানে ছিলেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, দক্ষিণ-পশ্চিম কঙ্গোর কিকউইট শহর থেকে রাজধানী কিনশাসায় ফিরছিল বিমানটি। মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কেনগে এলাকায় ভেঙে পড়ে সেটি। বিমানে থাকা কেউই প্রাণ বাঁচাতে পারেননি।
https://www.facebook.com/share/r/1DSmsxfoZV/
দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র। তবে ঠিক কী ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি ভেঙে পড়ল, তা এখনও জানা যায়নি। কঙ্গোর অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষের বোর্ডের চেয়ারম্যান ত্রিফোঁ কিন-কিয়েই মুলুম্বাও জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও অজানা। তদন্তের পরেই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং দুর্ঘটনার আগে পাইলটের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সে সমস্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরেই অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে জর্জরিত কঙ্গো। বিশেষ করে দেশের পূর্বাঞ্চলে একাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। তাদের মধ্যে রয়েছে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীও। গত বছর থেকে বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরও বিদ্রোহীদের দখলে চলে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই শীর্ষ সেনা আধিকারিকের মৃত্যু কঙ্গোর সামরিক বাহিনীর কাছে বড় ধাক্কা। তবে এই বিমান দুর্ঘটনার সঙ্গে দেশের চলতি সংঘর্ষের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য সামনে আসেনি।