'লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতর্ম’। এই প্রথম বার লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গাওয়া হবে জাতীয় গান!' প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তাদের এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে। এ বারের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ‘যুব শক্তি’। দেশে সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভের পর এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই ধরা হচ্ছে। প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতীয় পতাকা উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় পতাকা উন্মোচনের সময়ে আগে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দেমাতর্ম’। তার পরে গাওয়া হবে জাতীয় সঙ্গীত।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপিত হয়েছে। জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধিতেও উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রও। এ বার লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রেও রাখা হয়েছে ‘বন্দে মাতর্মের’ ছোঁয়া। আধিকারিক সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম গুলিকে জানান আমন্ত্রণপত্রে ‘বন্দে মাতর্ম-এর ছ’টি স্তবককেই রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চলতি বছরেই জাতীয় গান পরিবেশনের নিয়মবিধি স্থির করেছে কেন্দ্র। জানিয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’র মতো এ বার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গানও। সময়ও স্থির করে দেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবক ১৯০ সেকেন্ড (৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড)-এ পরিবেশন করতে হবে।
কেন্দ্র গত ফেব্রুয়ারিতে নির্দেশিকা দেয়,জাতীয় পতাকা উন্মোচন-সহ যে সব সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের রীতি আছে, সেখানে জাতীয় সঙ্গীতের আগে জাতীয় গান পরিবেশন করতেই হবে। এমনকি,বন্দে মাতরমের’ অপমানকে শাস্তিযোগ্য করতে সম্প্রতি সংসদে বিল পাস করিয়েছে কেন্দ্র। এ বার লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও ‘বন্দে মাতরম ’ গাওয়ার বিষয়টি বিবৃতি প্রকাশ করে জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের বক্তব্য, ‘এ বারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মূল বিষয় হবে যুব শক্তি। এর মাধ্যমে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে দেশের তরুণদের অবদানের কথা তুলে ধরা হবে।’