নিউজ ডেস্ক: প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো সামান্য অসুস্থতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু যন্ত্রণা কমার বদলে বাড়তেই থাকে। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে পৌঁছতেই চিকিৎসকদের সামনে আসে এমন এক অস্বাভাবিক ঘটনা, যা রীতিমতো অবাক করে দেয় সবাইকে। রোগীটির শরীরের ভিতরে এমন এক অতিথি লুকিয়ে ছিল, যার উপস্থিতির কথা কল্পনাও করতে পারেননি চিকিৎসকেরা।
ঘটনাটি বাংলাদেশের। ৫৫ বছর বয়সী এক মৎস্যজীবীর তলপেট থেকে অস্ত্রোপচার করে প্রায় ২.২ ফুট লম্বা একটি জ্যান্ত পাঁকাল মাছ বের করে আনেন চিকিৎসকেরা। জানা গিয়েছে, তীব্র তলপেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছন ওই ব্যক্তি। প্রথমে তিনি বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি কিন্তু ব্যথা আরও তীব্র হওয়ায় হাসপাতালে যান। হাসপাতালে প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক পাওয়া যায়। তবে, হৃদস্পন্দন ছিল কিছুটা দ্রুত, মিনিটে প্রায় ১১০ বার। এরপর এক্স-রে তে তাঁর তলপেটের ডান দিকে অর্ধচন্দ্রাকৃতির সরু ও লম্বা একটি ছায়া দেখা যায়। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পেরিটোনাইটিসের লক্ষণও মেলে।
এরপর, চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, হাসপাতালে আসার প্রায় একদিন আগে একটি পাঁকাল মাছ তাঁর পায়ুদ্বার দিয়ে শরীরের ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। কিন্তু, সেটি নিজে থেকে বেরিয়ে আসবে ভেবে তিনি প্রথমে চিকিৎসকের কাছে যাননি। পরে, ব্যথা বাড়িতে থাকায় তিনি হাসপাতালে আসেন। সংক্রমণ যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে, প্রথমে তাঁকে শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক ও তরল দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল পেটের ভিতরে সংক্রমণ থেকে সেফটিসেমিয়া হতে পারে। তাই, দেরি না করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ল্যাপারোটমির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে তলপেট থেকে মাছটিকে বের করে আনেন চিকিৎসকেরা।
তবে, সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল শরীরের ভিতরে এতক্ষণ থাকার ফলেও, মাছটি তখনও জীবিত ছিল। চিকিৎসকদের ধারণা মলাশয়ের দেয়াল ভেদ করে মাছটি পেরিটোনিয়াল গহ্বরে ঢুকে পড়েছিল। সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে রোগীর বৃহদন্ত্র থেকে বজ্রপদার্থ বাইরে বের করার ব্যবস্থাও করা হয়। পরবর্তীকালে, কোনও গুরুতর উপসর্গ না থাকায় রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিরল বলে উল্লেখ করেছেন। জীবন্ত প্রাণীর কারনে অন্ত্রে এরকম ছিদ্র তৈরি হওয়ার ঘটনা সাধারণত দেখা যায় না। ফলে, ঘটনাটি শুধুমাত্র চাঞ্চল্যকরই নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট ব্যতিক্রমী বলে মনে করা হচ্ছে।




